একাত্তর বাংলা ডেস্ক
মহেশখালিতে ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) জাহাজ নষ্ট হওয়ায় আমদানি করা লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) পাইপ লাইনে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে দেশে গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকট থেকে মুক্তি মার্চের আগে মিলবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রমতে, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালে দুটি বিশেষায়িত জাহাজ এফএসআরইউ কাজ করে থাকে। এসব জাহাজে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে পরিণত করে পাইপ লাইনে দেওয়া হয়। যা সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছায়। এই পাইপ লাইন ব্যবহার করে আগে দৈনিক ৮০০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ করা হতো। এর মধ্য থেকে চট্টগ্রামে প্রয়োজনীয় গ্যাস রেখে বাকি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হয়। কিন্তু একটি এফএসআরইউ সংস্কারের জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানোর পরই চট্টগ্রামে গ্যাসের যোগানে ধস নামে। যার প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডেও। বর্তমানে একটি জাহাজ দিয়ে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছে পাইপ লাইনে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রেখে বাকি গ্যাস নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা অঞ্চলে। এর ফলে গ্যাসের সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জানায়, গ্যাসের প্রবাহ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এতে হাজার হাজার গ্রাহক ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়েছেন। গ্যাসের যোগান না বাড়লে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। সংস্কারাধীন এফএসআরইউ থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। সিঙ্গাপুরে সংস্কারে থাকা একটি এফএসআরইউ এ সপ্তাহে মহেশখালির এলএনজি টার্মিনালে সংযুক্ত করার কাজ চলছে। এটি সংযুক্ত হয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হলে অপর জাহাজটি আবার পাঠানো হবে সিঙ্গাপুরে। ফলে আরও কিছুদিন সরবরাহ চলবে একটি জাহাজ দিয়েই।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু সাকলায়েন খবরের কাগজকে বলেন, ‘কিছু টেকনিক্যাল কারণে গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে কিছুটা স্বাভাবিক হবে। সংস্কার শেষে এফএসআরইউ জাহাজ আমদানি করা লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে সংযুক্তির কাজ চলায় সরবরাহ কমে গেছে। তাই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’
কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) প্রকৌশলী মো. শফিউল আজম খান বলেন, ‘চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মূলত এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস না পাওয়ায় সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো এবং আবাসিকে সংকট বেশি দেখা দিয়েছে। তবে বর্তমানে সংস্কার হওয়া একটি জাহাজের সংযুক্তির কাজ চলছে। অপর জাহাজও সংস্কারের জন্য যাবে। সেটি সংস্কার শেষে ফিরলে পুরোপুরি ঠিক হবে গ্যাসের সংকট। যা আগামী মার্চের আগে হয়ত সম্ভব হবে না।’
কেজিডিসিএলের সূত্রমতে, চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা ৩১২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে চট্টগ্রামের দুটি সার কারখানায় দেওয়া হচ্ছে ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বাকি গ্যাস আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের দেওয়া হয়। সৃষ্ট সংকটে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।
কেজিডিসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে আগে আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ গ্যাস পাইপ লাইনের মাধ্যমে সিলেট এবং কুমিল্লা অঞ্চল থেকে যে গ্যাস আসত তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শুধুমাত্র এলএনজি দিয়েই চট্টগ্রামের শিল্প কারখানা থেকে রান্নাঘরের চুলা পর্যন্ত সবকিছু সামাল দেওয়া হয়। বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি পর্যাপ্ত থাকলেই কেবল চট্টগ্রামে গ্যাসের স্বাভাবিক যোগান থাকে। এলএনজি আমদানি সরবরাহ কমে যাওয়া কিংবা কোনোভাবে বিঘ্নিত হলেই চট্টগ্রামে গ্যাস থাকার সুযোগ নেই।

