সুমন ভৌমিক: ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে ছিনতাইকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে অনেক আগেই। বছরে প্রতি মাসে গড়ে ১০-১২টি ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে না এমন মাস নেই! রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও আনসার এর দায়িত্বের অবহেলায় ছিনতাই বেড়েই যাচ্ছে। যাত্রীদের বাড়ি দূরে থাকায় কিংবা চলন্ত ট্রেনে ছিনতাই হওয়ায় বেশিরভাগ যাত্রীই ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় কোন অভিযোগ দেয় না। ছিনতাই কবলে পড়া যাত্রীগণ নিজেকে অসহায়ত্ব মনে করে নিবরে মেনে নিয়ে গন্তব্য স্থানে চলে যায়। মোবাইল ছিনতাই হলে পাওয়ার আশা থাকে কিন্তু টাকা ছিনতাই হলে কোন আশাই থাকে না।
২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ ঘটিকায় ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা পুলিশ ও আনসার এর দায়িত্বের অবহেলার কারনে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক ট্রেনযাত্রীর প্রাণ দিতে হয়েছে বলে ১৭ নং ওয়ার্ডবাসী জানায়। ১৭ নং ওয়ার্ডবাসী আরও বলেন সাংবাদিক ভাই রেলস্টেশনে মোবাইল ছিনতাই, টাকা ছিনতাই এটা সাধারন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত-এটা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের প্রত্যাশা ছিনতাইকারীদের দ্রুত সনাক্ত করে পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিহতের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম জানান, এক ট্রেনযাত্রী নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে পৌঁছলে ট্রেনযাত্রী প্রস্রাব করতে ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামলে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। তিনি আরো জানান, ছিনতাইকারীদের দ্রুত সনাক্ত করতে কোতোয়ালী পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যক্তিটি ললিত পালের ছেলে গোপাল চন্দ্র পাল (৪৫) এবং তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানার গাগলাজোড় এলাকায়। রেলওয়ে স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে নিহতের ঘটনা ঘটে। নিহত গোপাল গাজীপুরে শ্রমিকের কাজ করতেন।
ওসি জাহাঙ্গীর আরও জানান, মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেনটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে প্রবেশ করলে ট্রেনের যাত্রী গোপাল প্রস্রাব করতে ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নেমে পরিত্যক্ত একটি বগির পেছনে অন্ধকার স্থানে যায়। ফেরার পথে ছিনতাইকারীরা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে ঘিরে ফেলে এবং একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। রেলস্টেশন এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এই হত্যার ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে গ্রেফতার করতে কাজ করছে কোতোয়ালী পুলিশ।

