একাত্তর বাংলা
সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই চট্টগ্রামের পটিয়া আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হুইপ সামশুল হক চৌধুরীকে জুতা নিক্ষেপ করেছে স্থানীয় জনতা। একই সঙ্গে হুইপের ভাইকে কান ধরে ওঠ-বস করানো হয়েছে। এ সময় তাকে উদ্দেশ করে পচা ডিমও নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়ে দীর্ঘ ১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সামশু। পরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতারা এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা সামশুল হক চৌধুরীর ভাই মহব্বতকে ‘কান ধরে ওঠ-বস’ করতে বাধ্য করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সামশুল হক চৌধুরীর গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে উপজেলার কুসুমপুরা এলাকায় গণসংযোগের কথা ছিল। গাড়িবহর নিয়ে সামশু পটিয়ার শান্তিরহাটের জিরি মাদ্রাসা গেট এলাকায় পৌঁছালে সড়কের দুই পাশ থেকে নারী-পুরুষরা তাকে লক্ষ্য করে জুতা ও পচা ডিম নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ সময় সামশুল হক চৌধুরী সড়কে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে তিনি রাস্তায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন।
জুতা নিক্ষেপের একপর্যায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাই ফজলুল হক চৌধুরী ওরফে মহব্বত গাড়ি থেকে নেমে পালানোর সময় জনতা ধাওয়া দিয়ে ধরে ‘কান ধরে ওঠ-বস’ করায়। গত ১৫ বছরে উন্নয়নের নামে হরিলুট, অনিয়ম, দখল-বেদখল বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে জনতা।
স্থানীয় যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম বলেন, মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছিল। তিনি কোনো উন্নয়ন করেননি। বিগত ১৫ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সামশুল হককে জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করেছে স্থানীয় জনতা। তার ভাই মহব্বতকে কান ধরে ওঠ-বস করায়।
পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম হোসাইন রানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নির্বাচনি কেন্দ্রে ছিলাম। খবর পেয়ে আমরা ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি। তিনি একসময় এ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন, এ চিন্তা থেকেই আমরা উদ্ধারে যাই।’
নৌকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও পটিয়ার সাবেক পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘সেখানে আমাদের কোনো কর্মী-সমর্থক ছিল না। হুইপ ও তার ভাইয়েরা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে জুতা নিক্ষেপ করে বলে বলে শুনেছি। এখানে আমাদের কোনো দায় নেই। যা হয়েছে সব সাধারণ মানুষ করেছে।’
পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে থানার পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন ওসি। তবে কাউকে তারা পাননি। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছিল।
জুতা নিক্ষেপ ও কান ধরে ওঠ-বসের ঘটনায় সামশুল হক বা পক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হুইপ সামশুল হক।

