একাত্তর বাংলাঃ শিল্পে ব্যাংক ঋণের জটিলতাই বড় বাধা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলেছেন- ব্যাংক ঋণে সুদের হার কেন কমানো হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোববার (৩১ মার্চ) সকালে প্রথম শিল্পমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় শিল্পখাতকে বহুমুখীকরণ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সময় মতো ঋণ পরিশোধ করাও শিল্প উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব।
শিল্পখাতকে বলা হয় কোনো দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। এক সময়ের কৃষিপ্রধান এই বাংলাদেশ আজ বিশ্বায়নের ধারায় ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে শিল্পখাতের নানা মাত্রিক প্রসারে।
বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে শিল্পখাতের অবদান গিয়ে ঠেকেছে ৩৩ দশমিক ৭১ শতাংশে। লক্ষ্য রয়েছে ২০২১ সালের মধ্যে এই ধারা উন্নীত করা হবে ৪০ শতাংশে৷
টেকসই শিল্পখাতের বিকাশে শিল্প উদ্যোক্তাসহ, দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে দেশে এই প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো জাতীয় শিল্পমেলা। সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই আয়োজনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শিল্পখাতের বিকাশ ও সংকট নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, শিল্পের বিকাশে ব্যাংক ঋণ বড় জটিলতার কারণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের শিল্পায়নের বড় প্রতিবন্ধকতা হল ব্যাংক ঋণ। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যাংকের মালিক যারা তাদের শিল্প কারখানা আছে। তারাও ব্যবসা বাণিজ্য করে। আমার তো সেখানও হাত দিতে হবে। তারা কিভাবে কী করছে, সঠিকভাবে ট্যাক্স দিচ্ছে কিনা, কাঁচামাল ঠিকমতো আনছে কিনা। সরকার সব করে দিবে তা তো না।
শিল্পকে বহুমুখীকরণের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, উদ্যোক্তাদের মনোযোগী হতে হবে পরিবেশ রক্ষা কার্যক্রমেও। থাকতে হবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কুটির শিল্প, মাঝারি শিল্প গড়লেও বৃহৎ শিল্প সেরকম গড়ে ওঠেনি। তার জন্য বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে দেয়া দরকার এবং জায়গায় তৈরি করা দরকার। আমরা চাই না, যেখানে সেখানে শিল্প কারখানা গড়ে উঠে কৃষি জমি নষ্ট হোক। কারণ আমাদের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন, উৎপাদন, রপ্তানি এবং বাজারজাতকরণ বহুমুখী করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো পদক্ষেপই নেন না। অথচ এই বর্জ্যের কারণেই আমাদের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, নদী নষ্ট হচ্ছে, এটার দিকে কেউ নজরই দিতে চান না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কিছু টাকা খরচ করতে হবে, এই তো। সেটা যদি আপনারা করেন তাহলে আমাদের পরিবেশটাও সুরক্ষিত হয়।
এবারের মেলায় সারা দেশ থেকে বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র, কুটির, এবং হাইটেক পণ্যসহ ৩০০ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। পরে এসব স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

