বাবু চৌধুরীঃ অস্টিয়াস্থ ভিয়েনাতে বাংলা কমিউনিটির অভিভাবক, বিশিষ্ট সমাজ সেবক শাহ মোহাম্মদ ফরহাদ পরলোকগমনে বিভিন্ন মহলের শোক জ্ঞাপন ও শ্রদ্ধা নিবেদন। তার মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশে তার নিজ বাড়ী কলেজ রোড ও শশুর বাড়ী গুলকি বাড়ী তে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহের এই কৃতি সন্তান ছিলো সদা হাসোজ্জল একটি মানুষ। ময়মনসিংহের পৌরসভার সাবেক ২ নং ওয়ার্ড বর্তমান ৫ নং ওয়ার্ড এর প্রথম কমিশনার হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই গুনী মানুষটি এখন আর নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
গত ১০ মে স্থানীয় সময় সকাল ৯ টায় ভিয়েনার ভিলহেইম হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুকুট বিহীন এ সম্রাট মৃত্যুবরন করেন।
ভিয়েনায় অবস্থানরত বাংরাদেশীদের কাছে তিনি ছিলেন মুকুট বিহীন সম্রাট । বাংলা কমিউনিটিতে তার অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবেনা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
শাহ মোহাম্মদ ফরহাদের মৃত্যুতে ভিয়েনা বাংলা কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শাহ মোহাম্মদ ফরহাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, শাহ মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ থেকে ভিয়েনাতে আসেন। এরপর ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে দীর্ঘ দিন চাকুরী করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতি গঠনে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম । তিনি মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সমাজ সেবা করেছেন।
বিশেষ করে ভিয়েনায় যেসব বাংলাদেশি অবৈধভাবে বসবাস করতেন তাদেরকে বৈধভাবে থাকার জন্য সহযোগিতা করেছন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, ভিয়েনার বাংলাদেশিরা সত্যিকারের একজন অভিভাবক হারিয়েছেন। প্রতিটি বাংলাদেশির বিপদে সবার আগে এগিয়ে আসতেন শাহ মোহাম্মদ ফরহাদ। পাশাপাশি বিনামূল্যে মানুষকে আইনি সহায়তা দিতেন।
এছাড়াও তিনি ছিলেন বায়তুল মোকারম জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি। প্রবাসীরা মনে করেন এ ক্ষতি কোনদিন পূরণ হবার নয়।
গত ১৫ মে শাহ মোহাম্মদ ফরহাদের জানাযা শেষে দাফন করা হয় ভিয়েনাতে। তার জানাযায় ভিয়েনায় অবস্থানরত বাংলাদেশী ছাড়াও অংশ নেয় বিভিন্ন দেশের নাগরিকবৃন্দ।

