স্টাফ রিপোর্টার ॥
বকশীগঞ্জ পৌরসভার স্থগিত ভোট কেন্দ্রের নির্বাচন আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী পৌর যুবলীগের আহবায়ক নজরুল ইসলাম সওদাগরের পক্ষে মাঠে নেমেছেন উপজেলা বিএনপি’র বহিস্কৃত সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জনকল্যান সংগঠনের চেয়ারম্যান আবদুর রউফ তালুকদার। গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী তিনি পৌর শহরের মালিরচর হাজিপাড়া এলাকায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম সওদাগরের জগ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
জানাগেছে,গত ২৮ ডিসেম্বর বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১২ টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। অনিয়মের কারনে হাজিপাড়া কেন্দ্র ভোট গ্রহন স্থগিত করে প্রশাসন। ওই নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির বহিস্কৃত সাবেক সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রউফ তালুকদার প্রথমে আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব শাহীনা বেগমকে সমর্থন করেন। তার সমর্থনের কারনে বাংলাদেশ জনকল্যান সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল তালুকদারের নেতৃত্বে শাহীনার নির্বাচনী প্রচারণা চালায় জনকল্যান ও ছাত্রকল্যান সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কিন্তু হঠাৎ নির্বাচনের আগের দিন ডিগবাজি দিয়ে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী পৌর যুবলীগের আহবায়ক নজরুল ইসলাম সওদাগরের পক্ষে সমর্থন দেয় উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রউফ তালুকদার। এতে করেই জনমনে বহুরুপী খেতাব পেয়েছেন আবদুর রউফ তালুকদার। যার কারনে বিএনপি থেকে বহিস্কার হওয়ার পর রউফ তালুকদারের হাতে গড়া জনকল্যান সংগঠন থেকে সরে যান সংগঠনের মহাসচিব শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল তালুকদারসহ একাধিক নেতাকর্মী।
জানাযায়,উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রউফ তালুকদার জাতীয় পার্টি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরে এক সময় আওয়ামীলীগের এমপির পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করেন। এবং পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর বিএনপির সভাপতি ছিলেন তিনি। দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় না থাকায় এবং আওয়ামীলীগের সাথে আতাত করে চলার কারনে প্রায় ২ বছর আগে রউফ তালুকদারকে সভাপতি পদসহ সাধারণ সদস্য পদ থেকে চূড়ান্ত বহিস্কার করা হয়। কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে বহিস্কার করে। এর পর তিনি বিএনপি’র বহিস্কৃত নেতাকর্মীদের নিয়ে বাংলাদেশ জনকল্যান সংগঠন নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। জানা যায়, বিএনপিতে আবদুর রউফ তালুকদারের একচ্ছত্র আধিপত্তের কারনে বিএনপি থেকে বাদ পড়েন বকশীগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ভূলু সওদাগরের ভাতিজা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মানিক সওদাগর, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সওদাগরসহ বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সওদাগর স্থানীয় এমপির হাত ধরে আওয়ামীলীগে যোগ দেন। এবং পৌর যুবলীগের আহবায়ক নির্বাচিত হন।
এতে করে গত ২৮ ডিসেম্বর বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বেরিয়ে আসে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রউফ তালুকাদারের আসল রুপ। তিনি প্রকাশ্যে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ফখরুজ্জামান মতিনকে ঠেকানোর মিশন নিয়ে মাঠে নামেন। মতিনকে ঘায়েল করতে প্রথমে তিনি আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শাহীনার পক্ষে কাজ করেন। পরবর্তীতের নির্বাচনের আগের দিন ডিগবাজি দিয়ে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী নজরুর ইসলাম সওদাগরের পক্ষে মাঠে নামেন। একটি সূত্র জানায়,তিনি আবারো বিএনপিতে ফিরতে মরিয়া হয়ে আছেন। যে কারনে বিএনপির সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সমর্থিতদের নিয়ে ঘুরাফেরা করছেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণা কালে তার সাথে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ জনকল্যান সংগঠনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হালিম মন্ডল,ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জনকল্যান সংগঠনের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্সসহ বিএনপি’র সাবেক এমপি মিল্লাত সমর্থিত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বহুরুপী বকশীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান রউফ তালুকদার !
Date:

