মতিন রহমান:জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে জমে উঠেছে প্রচার। ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা। পোস্টারে ছেয়ে গেছে পৌর শহরের অলিগলি ও সড়ক। গান এবং নানা কথার ছন্দে চলছে মাইকিং প্রার্থীরা কর্মীদের নিয়ে ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। পৌরসভার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। গভীর রাত পর্যন্ত চলছে উঠান বৈঠক। এদিকে ভোটারদের মাঝেও চলছে নানা জল্পনাকল্পনা,হিসাবনিকাশ।
২০১৩ সালে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে বকশীগঞ্জ পৌরসভা গঠনের পর আগামী ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় নির্বাচন। এবার মেয়র পদে চারজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন এবং ৩টি সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ১১ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।মোট ভোটার ৩৫ হাজার ৫শ’ ১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৭ হাজার ৫শ’ ৯জন এবং মহিলা ১৮ হাজার ৮ জন। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা প্রথমবারের মত ইভিএমে তাঁদের ভোট প্রদান করবেন।
মেয়র পদে প্রার্থীরা হলেন,জগ প্রতীকে বর্তমান মেয়র ও পৌর যুবলীগের আহবায়ক নজরুল ইসলাম সওদাগর, মোবাইল ফোন প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন তালুকদার বাবুল, নারিকেল গাছ প্রতীকে সদ্য বহিস্কৃত উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ফকরুজ্জামান মতিন,রেল ইন্জিন প্রতীকে বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজের সাবেক ভিপি আনোয়ার হোসেন বাহাদুর।ভোটারদের ধারণা, তাদের মধ্যে প্রথম তিনজনের মধ্যেই মূলত লড়াই হবে।
আলহাজ্ব ইসলাম সওদাগর পৌর মেয়র হওয়ার পর থেকেই পৌর এলাকার সকল উন্নয়ন কাজে গতিশীলতা অব্যাহত রাখতে সফল হয়েছেন। সাংগঠনিক দক্ষতার গুনে পরিচিত হয়েছেন তিনি একজন দক্ষ পৌরপতি হিসেবে। এ পর্যন্ত পৌর এলাকায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ সমাপ্ত করেছেন। তার এ অল্প সময়ের সকল উন্নয়ন কাজের সফলতায় সাধারন ভোটাররা আবারও নজরুলকেই পৌরপিতা হিসেবে দেখতে চায়। নজরুল নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে এবং শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের সব এলাকাতেই নজরুল সভা-সমাবেশ-বৈঠক করে তার অবস্থানকে ক্রমান্বয়ে মজবুত করেছেন।
মেয়র পদে অপর দুই শক্তিশালী প্রার্থী ইসমাইল হোসেন তালুকদার (মোবাইল ফোন) এবং ফকরুজ্জামান মতিন (নারিকেল গাছ) প্রতীক নিয়ে জগ প্রতীকের নজরুল ইসলাম সওদাগরের জনপ্রিয়তা ভাংতে ভোটারদের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। তারা নির্বাচিত হলে বকশিগঞ্জ পৌরসভায় নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, পরিকল্পিত ভাবে উন্নয়ন মূলক কাজসহ পাশাপাশি পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত করবেন বলে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে জনগনের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহন এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও দুই প্রার্থী মনে করেন। অপরদিকে তিন শক্তিশালী প্রার্থীদের অর্থ ও জনবল বেশি থাকায় রেলইঞ্জিন প্রতীক নিয়ে আনোয়ার হোসেন বাহাদুর মেয়র পদের স্বপ্ন পূরণ করতে প্রচারণায় তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না।
আরও পড়ুন 👉এবারও কি কোটিপতি সর্দানী লাভলী অপরাধ থেকে পার পেয়ে যাবে?

