সুমন ভৌমিকঃ ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ ঘটিকায় ময়মনসিংহ সদরের ৯নং খাগডহর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ৯নং খাগডহর ইউনিয়ন কৃষক লীগের আহবায়ক মোঃ কামাল হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম মিন্টু।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, এদেশে সব শ্রেণী পেশার মানুষ তাদের দাবি আদায়ের জন্য মাঠে নামতে পারে কিন্তু আমাদের দেশে কৃষকদের উপর কোন অন্যায় হলে কৃষক সংগঠিত হয়ে কোন আন্দোলন করতে পারে না। একেএম ফজলুল হক ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসনী কৃষকদের সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন। এদেশে কৃষকদের উন্নয়নের সংগঠন এই কৃষক লীগ।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের খাদ্য ঘাটতি ছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার যখন ক্ষমতায় আসেন তখনই কৃষকদের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। যেন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন হতে পারি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা পরবর্তীতে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্নতা অর্জন করেছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রিন্সিপাল সাহেব( সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান) যখন মন্ত্রী ছিলেন আমি আমার বাড়ির মসজিদে ৩/৪ বার অনুুদান নিয়েছিলাম। টোটাল ইউনিয়নে আমার হাত দিয়ে সাড়ে ৭লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলাম। তুলনা করলে দেখবেন বিএনপি আমলে কি হয়েছে আর আওয়ামী লীগ আমলে কি হয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী যেন সংগঠনে আসতে না পারে। বাংলাদেশ কৃষক লীগের একটি সম্মান রয়েছে, সেটি যেন বজায় থাকে।
এসময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের ময়মনসিংহ সদর সবচেয়ে অনুন্নত এলাকা। বিভিন্ন উপজেলায় সংগঠনের কাজে যেহেতু বের হচ্ছি, সেখানে দেখেছি একেবারে গ্রাম থেকে গ্রাম পর্যন্ত পাকা রাস্তা। ময়মনসিংহ সদরে জাতীয় পার্টির এমপি থাকার কারণে আমরা সবচেয়ে অনুন্নত জায়গায় রয়েছি। আশা করি আগামীতে ময়মনসিংহ সদরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন কৃষকদের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার সরকার কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে। এই কমিটিতে কৃষক লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি তদারকি করবে। আমরা খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্নতা অর্জনের পরও সঠিক মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে করোনাকালীন মহাদুর্যোগের পরও কৃষকদের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মৎস উৎপাদনে আমরা তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে আমরা সপ্তম।
প্রধান অতিথি এসময় বলেন, আমি সংগঠনের মাধ্যমে আরেকটি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। ২হাজার গবাদি পশুর গো-খাদ্য এবং ভ্যাকসিনের একটি প্রোগ্রাম ভবিষ্যতে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা হয়েছে। অন্যান্য অঞ্চলে এটি সদর উপজেলায় না হলেও প্রোগ্রামটি ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে আজকে যে কমিটি ঘোষণা করা হবে সেটি যেন একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর কমিটি হয়। পরবর্তীতে যেন এমন অভিযোগ শোনা না যায় যে, এ কমিটিতে কোন জামাত-বিএনপি রয়েছে অথবা কোন চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসী রয়েছে। এদেশে ভালো মানুষ কৃষক। যাদের কোন চাওয়া পাওয়া নেই। শিক্ষিত সমাজেই রয়েছে ভেজাল ও দূর্নীতি। একজন কৃষক কোনদিনও চিন্তা করে না ঘুষ খাবো, দূর্নীতি করবো। তিনি ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনটি সুন্দর ও সফল হওয়ার আহবান জানান।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি শেখ মোঃ কামরুল হাসান, এম আরিফ উল্লাহ খান (বাপ্পী), ৯নং খাগডহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন নান্নু, ৯নং খাগডহর ইউনিয়ন কৃষক লীগের যুগ্ম-আহবায়ক শেখ ফরিদ, মোঃ খোকন মিয়া, আফাজ উদ্দিনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
প্রধান বক্তা ছিলেন, সদর উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ইউসুফ আলী এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ সিহাব উদ্দিন।
৯নং খাগডহর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ১ম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ২য় অধিবেশন শুরু হয়। ৬নং ওয়ার্ড কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ২য় অধিবেশনে আব্দুল বারেককে সভাপতি ও ওমর আলীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

