একাত্তর বাংলাঃ ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকাতে পারে নাই, এবারও সময় মতো নির্বাচন হবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না। কেউ আসুক না আসুক নির্বাচন সময়মতো হবে। কেউ আটকাতে পারবে না।
বললেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকেলে গণভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি গত নির্বাচনে আসেনি, তাতে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়নি। আমরা ওইবার জানতাম তারা নির্বাচনে আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আসেনি। তাতে তো নির্বাচন থেমে যায়নি। তো এবারও তাদের আসার কথা আছে। তবে যদি এবারও না আসে তাহলে আমাদের কিছুই করার থাকবে না। আমরা তাদের কোনও রকম শাস্তি দেইনি। এতিমদের টাকা মেরে খাওয়ায় শাস্তি পেয়েছেন।’
এসময় তিনি আরো বলেন, বিএনপির দলে কি বাংলাদেশের কেউ ছিলো না প্রতিনিধিত্ব করার জন্য? তারেক রহমানের মতো দুর্নীতি সর্বজনবিদিত লোককে কেন দিতে হল? আমি যখন জেলে গিয়েছিলাম আমি তো আমার ছেলে বা বোনকে দায়িত্ব দেইনি। দিয়েছিলাম নিজের দলের লোককেই। তাহলে তাদের কি প্রতিনিধিত্ব দেয়ার লোকের অভাব পড়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস নতুন কিছু না, এটা যুগযুগ ধরে চলে আসছে। এটা কখনো প্রচার হয় কখনো প্রচার হয় না। এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে বেশি ছড়াচ্ছে। আর এটাই বাস্তবতা। প্রযুক্তি যেমন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, তেমনি সমস্যারও সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, ‘যখন একটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র যায় তখন সঠিক সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করতে প্রশ্নপত্র অন্তত ১ ঘণ্টা আগেই খুলে রেডি রাখতে হয়। এটা তো সবাই জানে। তখন যদি কেউ সেটার ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়, তাহলে তখন কী করবেন_?’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের কারণে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে হবে। ইন্টারনেট বন্ধ হলেই যে সব সমাধান হবে, তাতো না। তাহলে, মোবাইল ফোনসহ ডিজিটাল পদ্ধতি বন্ধ করে দিতে হবে। দেশে এখন সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ হয় প্রযুক্তির মাধ্যমে তাহলে সেটা বন্ধ করে দিলে দেশের কী অবস্থা হবে_?’
প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে কি শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করবেন এমন প্রশ্ন শেখ হাসিনা বলেন, প্রশ্নফাঁস কি শিক্ষামন্ত্রী অথবা সচিব করেন? তাহলে তাদের পদত্যাগের কথা আসবে কেন? তবে অবশ্যই কিছু একটা আছে, না হলে এভাবে ছড়াবে কীভাবে? তাই বলছি, আপনারা তাদেরকে ধরে দিন, আমরা শাস্তি দিয়ে দেবো।’
প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী সুখবর দিয়ে বলেন, ‘আমরা আজ থেকে ফোরজি যুগে প্রবেশ করছি। এরইমধ্যে ফোরজি তরঙ্গ নিলাম সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে এ কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমি বিটিআরসিএ এবং ডাক ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
দ্বিতীয় সুখবর হচ্ছে আমরা যে স্যাটেলাইট প্রস্তুত করছিলাম, সেটা প্রস্তুত হয়েছে। গতকাল আমি সকলের সঙ্গে মিটিং করলাম। আশা করছি আগামী মার্চ মাসের যেকোনো সময় এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। এরফলে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট হবে।
তৃতীয় সুখবর দিয়ে তিনি বলেন আরেকটি সুখবর হল ‘ব্রিটেন একসময় আমাদের ওপার বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটার ওপর আমরা কাজ করি। এয়ারপোর্টের সব ধরনের নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য ব্যপকবভাবে আমরা পদক্ষেপ নেই। আপনারা জানেন, এয়ারপোর্ট আমরা কার্গোতে দিতে পারতাম না। অন্য জায়গায় গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হত। সেই কার্গোর ওপর যে নিষেধাজ্ঞা তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে যেটা বাণিজ্যিকভাবে আমাদের আরো উন্নতি হল।’
এরপরেই প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া শুরু করেন।
ইতালি ও ভ্যাটিক্যান সিটি সফর শেষ করে দেশে ফেরার পর সোমবার বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

