একাত্তর বাংলাঃ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একদম ভিতরে ঢুকে বোমাবর্ষণ চালিয়েছে ভারতের যুদ্ধবিমান মিরাজ ২০০০। ভারতের দাবি নিহত ৩০০ আর রয়টার্স জানিয়েছে আহত সংখ্যা ১।
পুলওয়ামা কাণ্ডের পর এই হামলায় কতটা ক্ষতি হল জঙ্গিদের, জঙ্গি দমনে কতটা এগিয়ে গেল ভারত।নাকি শুরু হয়ে গেলো যুদ্ধের দামামা। এতে লাভ কার হতে পারে ? যদি জঙ্গী নিমূলের আড়ালে যুদ্ধই হয় পাক-ভারত তবে এশিয়ায় এর ব্যাপক প্রবাব অনিবার্য।
সাবেক সেনাপ্রধান শঙ্কর রায়চৌধুরী ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতীয় গোয়েন্দাদের। তার কথায়, ‘ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও বলা সম্ভব নয়। কিন্তু যেভাবে জইশের সব থেকে বড় ঘাঁটিতে ঢুকে আক্রমণ চালালো ভারতীয়রা, তা আসলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের নিখুঁত তথ্য জোগাড় করে দেয়াকেই সামনে আনছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ অনিল গৌড় সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, এই বিমান হামলার জন্য যে প্রস্তুতি ভারত নিয়েছে, সেটাই তাকে চমকে দিয়েছে। তার কথায়, ‘এই ধরনের বিমান হামলায় সবার আগে প্রয়োজন হয় নিখুঁত খবরের। এই জায়গাতেই অনেক এগিয়ে গিয়েছে ভারত।
কারণ, বিমান হামলার সময় যুদ্ধবিমানকে প্রথমে শত্রুঘাঁটির আকাশে একেবারে গাছের উচ্চতায় নামিয়ে নিয়ে যেতে হয়। তার পর যুদ্ধবিমান খাড়া ৯০ ডিগ্রি ওপরে ওঠে। ওপর থেকে বোমাবর্ষণ করে পাইলট আবার যুদ্ধবিমানটি নীচের উচ্চতায় নামিয়ে এনে অন্য এলাকার দিকে ছুটে যায়।’’
অনিল গৌড় জানান এই ধরনের আক্রমণ বিপজ্জনক, কারণ প্রতিপক্ষ বিন্দুমাত্র খবর পেলে যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে দিতে পারে। কারণ, যুদ্ধবিমান শত্রুঘাঁটির একদম কাছে পৌঁছে যায় । আশঙ্কা থাকে শত্রুর রাডারে ধরা পড়ে যাওয়ার। তাই পাইলট এবং যুদ্ধবিমান, সবার জন্যই এই ধরনের আক্রমণ অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বিপদের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও যেভাবে জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী, তা দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক বলে জানিয়েছেন অনিল গৌড়। একই সঙ্গে তার মন্তব্য, ‘পাকিস্তানের থেকে ভারতের বিমানবাহিনী অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই প্রথম আক্রমণ করার জন্য বিমানবাহিনীকে বেছে নেওয়াও ভারতের সেরা কৌশল।’
আরেক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ পি কে সায়গলেরও মন্তব্য, ‘আক্রমণ করলে প্রত্যাঘাত আসবে, এই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া গেল পাকিস্তানকে। দু’দিন আগেই এলাকা পরিদর্শন করে পাক সেনাপ্রধান জানিয়েছিলেন, ভারতের আক্রমণ সামাল দিতে তাদের প্রস্তুতি শেষ। সেই কথা যে কতটা ফাঁকা ছিল, তাই প্রমাণ করে দিল ভারতীয় বিমানবাহিনী।’

