কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: নার্স তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আটক ৫ জন বাজিতপুর থানায় রিমান্ডে রয়েছে।
ইতিমধ্যেই আসামীগণ জিজ্ঞাসাবাদে মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সারওয়ার জাহান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে বিষয়গুলি প্রকাশ করা যাবে না এবং তাদের কথা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।
এদিকে তানিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। মামলার শুরু থেকেই কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন বাসে যাত্রী না থাকায় ভয়ে তানিয়া লাফ দিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। তাছাড়াও ড্রাইভার এবং হেলপার তানিয়াকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার এনে ভর্তি করান।
এছাড়াও অভিযুক্ত বাসের ড্রাইভার নূরুজ্জামান ও হেলপার লালন মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, স্বর্ণলতা বাসের মালিক তাদেরকে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পন করতে বলেছেন। ফলে বিষয়টি প্রথম থেকে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আলো আঁধারি খেলায় নেমেছেন।
তিনি কথিত ঘটনার আলামত স্বর্ণলতা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৬২৮৫) বাসটি আটক না করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরী করে দেন। তিনি একাজটি কেন করেছেন তা এখনও রহস্যাবৃত। যদিও পরবর্তীতে উক্ত বাসটি কাপাসিয়া থানা পুলিশ উজলি দিঘীরপাড় থেকে উক্ত বাসটি আটক করে।
এদিকে নিহতের ভাই অভিযোগ করেন মামলাটি থানায় দায়েরের পূর্বেই উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তানিয়ার উপর পাশবিক নির্যাতনের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মামলা রেকর্ডের চেষ্টা করেন।
যদিও পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) প্রকৃত ঘটনাটি এজাহার হিসেবে গণ্যের নির্দেশ দিলে বাজিতপুর থানার পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেন। মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
অপরদিকে মামলার তদন্ত কার্যক্রম থানা পুলিশকে দিলেও অতি উৎসাহী হয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশান (পিবিআই) এর কিশোরগঞ্জের ইন্সপেক্টর ফারুক নিহত তানিয়ার গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করেন। বিষয়টি অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি।
উল্লেখ্য, কটিয়াদীতে স্বর্ণলতা পরিবহনের ড্রাইভার ও হেলপার বাসযাত্রী শাহিনুর আক্তার তানিয়া (২৪) নামে এক নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ধর্ষণকারীরা তাকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। নিহত শাহিনুর কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। শাহিনুর আক্তার উরুফে তানিয়া ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চাকরী করতেন। ময়না তদন্তে তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পাওয়া গিয়াছে।

