একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ ২৮ নভেম্বর শনিবার দুপুর ১২টায় ময়মনসিংহ মহানগরের প্রাণকেন্দ্র গাঙিনাপাড় ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন ফিরোজ জাহাঙ্গীর চত্বরে ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পুনরায় চালু করার দাবিতে ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড মহানগর আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠন এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সালেমা খাতুন সিদ্দিকা জেসমিন, সদস্য সঞ্জিব সরকার, মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ শামছুল আলম, জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য তপন দে, কোতোয়ালী সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান সরকার, ৭ নং ওয়ার্ড মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ হাফিজ, ৮ নং ওয়ার্ড মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নির্মল নন্দী, দিলীপ ধর, সাধারণ সম্পাদক পবিত্র রঞ্জন রায়, আওয়ামী লীগ নেতা সুমন ভৌমিক, সাংগঠনিক সম্পাদক দিলীপ রায়, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক সুমন দে, সদস্য রিপন দাস, ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রতন নাগ, সদস্য রবি চৌধুরী।
এছাড়াও মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক সাদজাদ হোসেন জুয়েল, সাবেক সদস্য আদনান হাসান, সুপ্রিয় দত্ত শুভ, শহর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ, মোঃ জাবেদ শেখ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রোকসানা আক্তার, ১৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মোঃ সোহেলসহ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু চাইলে এই জমিটি স্কুলকে লীজ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারতেন। উনি তা না করে আদালতের রায় হওয়ার ৩দিনের মধ্যে তড়িঘড়ি করে বুলডোজার দিয়ে স্কুলটিকে গুড়িয়ে দেন। এমনকি স্কুলের আসবাবপত্র পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।
ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু বলেন, দীর্ঘ ৬ বছর যাবত এই বিদ্যালয় পরিচালিত হয়ে আসছিলো। আজকে সে বিদ্যালয়টি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় আর ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন গুড়িয়ে দিল। কোন চোর, ছিনতাইকারী, ডাকাতের নামে প্রতিষ্ঠান হয় না। প্রতিষ্ঠান হয় সমাজে গ্রহণযোগ্য ও ভালো মানুষের নামে। এটি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ভালো লাগলো না। তারা তাদের শতাধিক একর জমি বেদখলে থাকার পর কোন প্রয়োজনে বিদ্যালয়টি গুড়িয়ে দিয়ে জমি দখলে নিলেন। সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের সাথে কথা বলে বিদ্যালয়টি গুড়িয়ে দিলে কোন অভিযোগ থাকতো না। জনগনের প্রয়োজনেই তাদের নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়টি আকুয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিলো। বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখার জন্যে যদি নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিতেন তাহলে নাগরিক সমাজে প্রশংসিত হতেন। আমি আশা করবো আগামী সিটি কর্পোরেশনের মিটিং-এ উপস্থাপন করে বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপন করবেন।
মানববন্ধনে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সালেমা খাতুন সিদ্দিকা জেসমিন বলেন, এই মানববন্ধন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের অমানবিক আচরণে কলঙ্কের প্রতিবাদ। ডাঃ শুভ বিদ্যালয়টি গুড়িয়ে দেয়া মসিকের অমানবিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ। আমরা তা পুনঃস্থাপনের দাবি জানাই। এটি কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। কোন ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়। এটি মানব গড়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
মানববন্ধনে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সঞ্জিব সরকার বলেন, ময়মনসিংহের আওয়ামী রাজনীতিতে ও একাত্তরের রণাঙ্গনে আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি। অনেকেরই আওয়ামী লীগ এর রাজনীতিতে হাতেখড়ি এই মহান নেতার হাত ধরে। দূর্ঘটনায় নিহত এ মহান নেতার কনিষ্ঠ সন্তান ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভ মৃত্যুবরণ করেন। তার নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি মসিক কর্তৃক গুড়িয়ে দেয়া সত্যিই দুঃখজনক। আমি বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপনের দাবি জানাই।
মানববন্ধনে ময়মনসিংহ মহানগর শ্রমিক লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শামছুল আলম বলেন, ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় গুড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করবেন না। এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ২৬০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।
তিনি আরও বলেন, ময়মসিংহ সিটি কর্পোরেশনের বহু জায়গা বেদখল রয়েছে। অনেককে লীজও দিয়েছেন। আপনি ইচ্ছা করলে বিদ্যালয়টির জমি লীজ দিয়ে বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপন করতে পারেন। মানবতায় আসেন, হিংসাত্মক রাজনীতিতে নয়।
মানববন্ধনে কোতোয়ালী সেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি হাসান সরকার বলেন, ডাঃ শুভ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়টি ময়লা আবর্জনার স্তুপের উপর নির্মিত হয়েছিল। সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এসব ময়লা আবর্জনা আমরা এলাকাবাসী মিলে নিজ হাতে পরিস্কার করে নিজের অর্থায়নে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করি। এর আশপাশে মসিকের জমি বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নাম মাত্র লীজ দিয়ে প্রচুর টাকা কামিয়েছে। সরকারী খাতে এ টাকা জমা হয়েছে কি-না জানা নেই। এখনও সিটি কর্পোরেশনের জমি বিভিন্ন স্থানে বেদখল হয়ে রয়েছে। সেগুলো মেয়র নিজ দখলে নেওয়ার কোন ব্যবস্থা না করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দিয়ে জমি দখলে নেয়া প্রতিহিংসা নয় কি? মেয়র সাহেব সরকারী জমি দখল করে নিজের মায়ের নামে স্কুল দিয়েছেন। সেখানে আপনার নীতি, সততা ও আদর্শ কোথায় রেখেছেন?
মানববন্ধনে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট তপন দে বিদ্যালয়টি গুড়িয়ে দেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে দাবি জানান মসিক মেয়র এর কাছে বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপনের জন্য।

