সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলাতে বন্যার কিছুটা উন্নতি হলেও গত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার নদীগর্ভে চলে গেছে ঝিনাই নদীর উপর নির্মিত শুয়াকৈর গ্রামের ২০০ মিটার ব্রীজের ৬০ মিটার।
একদিকে বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমিসহ বসতবাড়ী, রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। ঠিক এমন সময় উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর হুদুর মোড় শাহাজাদা হাট (নয়ার হাট) এলাকার ব্রীজটির মাঝখানের ৪০ মিটার গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নদীগর্ভে চলে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আবারও ২০ মিটার নদীগর্ভে চলে যায়।
ব্রীজটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় এলাকার মানুষের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেছে। কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর, চর হেলেঞ্চাবাড়ী, চর বড়বাড়ীয়া, চুনিয়াপটলসহ ছাতারিয়া, আদ্রা, চর আদ্রা, রৌহা, নান্দিনা, হাটবাড়ী এবং আরও কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গরুর গাড়ী, ঘোড়ার গাড়ী, ফাইটার (নছিমন), অটোবাইক, অটোভ্যান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হওয়া মানুষগুলো এখন একদিকে ব্রীজের চিন্তা করছে আরেক দিকে চিন্তা করছে উপার্জনের, পরিবার-পরিজনের। ভারী জিসিনপত্র পার করতে না পারলেও পুরোনোদিনের মতো ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় ওইসব এলাকার মানুষ ভাঙ্গা ব্রীজের পাশ দিয়ে নদী পার হচ্ছে। যাওয়া-আসা দুই পারে গুনতে হচ্ছে বিশ টাকা।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কার্যাদেশ পেয়ে এম.এইচ এন্টারপ্রাইজ, প্রোপ্রাইটর- মো: আক্তারুজ্জামান ব্রীজটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের ১৩ বছর পার হলেও ১৪ বছরের মাথায় গত ২১ জুলাই ২০২০ মঙ্গলবার দুপুরে ব্রীজটির ২টি পিলারসহ ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের ২টি গার্ডার প্রায় ১ ফুট নিচ দিকে চলে যায়। পরে ওই দিন গভীর রাতে ব্রীজের দেবে যাওয়া অংশ অর্থার ৪০ মিটার নদীগর্ভে চলে যায়। এলাকার অনেকে বলেন ব্রীজের পাশ থেকে অবৈধভাবে একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি উত্তোলন করার জন্যই ব্রীজটির আজ এ অবস্থা। কিছু মানুষ সুবিধা নিলেও এখন আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আবার অনেকে বলেন, পাইলিং এর পিলার ছোট হওয়ায় পানির স্রোতে পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে ব্রীজটি নদীগর্ভে চলে গেছে।
উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ব্রীজটির পাইলিংয়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় পানির স্রোতে দুটি পিলারসহ ব্রীজের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। বন্যার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ জানান, ব্রীজটি পরিদর্শন করে সার্বিক অবস্থা ঊর্ধতন কর্তৃপকে জানানো হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ মুরাদ হাসান এমপির প্রতি দ্রুত নতুন ব্রীজ নির্মাণ করে দেওয়ার দাবী জানান, ব্রীজ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়া এলাকাবাসী।

