একাত্তর বাংলাঃ রকৃতির অনাবিল প্রাচুর্য আরো প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে বসন্তে। ফাগুনের প্রথম দিনে দক্ষিণের সমীরণ শিহরণ জাগায় তরুণ মনে। ফাগুন হাওয়ায় চারদিকে শুধুই রঙয়ের মেলা। কোকিলের কলতান আর পলাশের সৌরভে, বসন্ত জাগ্রত দুয়ারে। নানা উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বরণ করা হচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তকে।
শিশু শিল্পীদের ছোট ছোট পায়ে তাল লয়ের খেলা। সুরে সুরে রঙিন পোশাকে ছোট্ট শিশুদের নাচে মুগ্ধ দর্শকরা। আবৃত্তি সংগঠন বোধনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর ডিসি হিলে বসন্ত বরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবের শুরু হয় সেতার বাজিয়ে, যার উদ্বোধন করেন ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী। এরপরই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লোকজ নৃত্য পরিবেশন করে শিশুরা। সাথে ছিল সমবেত সঙ্গীত ও একক পরিবেশনা।
ময়মনসিংহে মঙ্গলবার সকালে শহরের স্বপ্নবুনন স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীরা নাচ-গানে মাতোয়ারা হয়ে ফাগুনকে বরণ করে নেয়। পড়নে হলুদ শাড়ি আর গলায় ফুলের মালা, এমনি নানা বর্ণিল সজ্জায় সাজে শিশুরা।
বসন্তকে বরণ করে নিতে, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের বকুলতলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এসময় গানে গানে নৃত্য পরিবেশন করে শিক্ষার্থীরা। পরে ফাগুন নিয়ে লেখা কবিতা আবৃত্তি করা হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আয়োজনে বসন্ত বরণের র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে র্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ‘অদম্য বাংলা’ ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়। পরে ভাস্কর্যের পাদদেশে লোকজ বাংলা গান ও কবিতা পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক কর্মীরা। বসন্তের আগমন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে পিঠা উৎসবেরও আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটে, ফাগুনের প্রথম দিনকে বরণ করে নিতে উৎসবের রঙে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া, রংপুর, পঞ্চগড়, নাটোর, নেত্রকোণাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে ফাগুনের প্রথম দিনটি উদযাপন করা হয়।

