একাত্তর বাংলাঃ খোদ রাজধানীতেই নির্ধারিত সময়ে মিলছে না বিদ্যুতের নতুন সংযোগ। আবেদনের ৭ দিনের মধ্যে সংযোগ দেয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও গ্রাহকদেরকে অপেক্ষায় থাকতে হয় মাসের পর মাস। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। আর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নিজেও মনে করেন, আরো দ্রুততার সঙ্গে গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজন ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার।
রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা মতিউর রহমান। এখনো মিলেনি সংযোগ, তাই পাশের বাড়ি থেকে তার টেনে মেটাতে হচ্ছে বিদ্যুৎ চাহিদা। গেলো কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েক দফা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন নতুন সংযোগ পেতে। সবশেষ গেরো ডিসেম্বরে আবারো আবেদন, তবে এখনো পর্যন্ত কেবল অপেক্ষা আর আশ্বাসই তার সম্বল।
ভুক্তভোগীরা জানান, ‘আমার ভাইয়ের বাড়ি থেকে টেনে লাইন এনেছি। আমি কয়েকবার চেষ্ট করে ব্যর্থ হয়েছি বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে।’
সরকারের নির্দেশনা রয়েছে, গ্রাহকের আবেদনের ৭ দিনের মধ্যে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার। কিন্তু আবেদনের সঙ্গে প্রায় ১৫ ধরনের কাগজপত্র সংযুক্ত করতে গিয়ে দেখা দিচ্ছে নানা জটিলতা, গ্রাহককে হতে হচ্ছে হয়রানির শিকার। এছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে দালালদের দৌরাত্মেরও অভিযোগ রয়েছে। সবমিলিয়ে আবেদনের পর পেরিয়ে যায় মাসের পর মাস, কিন্তু মিলে না বিদ্যুতের নতুন সংযোগ।
ভুক্তভোগীরা জানান, ‘চার মাসের মতো চলে গেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ দিচ্ছি দিবো বলে আর দেয় না। বারবার আবেদন করার পরও কোনো সুরহা হচ্ছে না।’
আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘সরকারি নিয়মনীতি মেনেই আবেদন করছি কিন্তু সংযোগ পাচ্ছি না। আমি এখন অন্য বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছি। যেটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এভাবে বিদ্যুৎ নিতে চায় না।’
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, বিতরণ কোম্পানিগুলোর সক্ষমতায় ঘাটতি থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে দেয়া যাচ্ছে না বিদ্যুতের নতুন সংযোগ।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আসলে বিদ্যুতের লাইন দিতে তিন দিন লাগে। কারণ তাদের চৌদ গোষ্ঠির পরিচয়ের তো দরকার নেই, একটা বিদ্যুতের লাইন নিতে গেলে। ভোটার আইডি আছে, এটাই যথেষ্ট। স্মার্টভাবে চিন্তা করা, বলার অপেক্ষা রাখে না প্রক্রিয়া হতে সময় লাগবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মের সুযোগ করতেই নতুন সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাগজপত্রের নামে গ্রাহক হয়রানি করছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো।
বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘যেসব কাগজের অজুহাতে সংযোগ দিতে দেরি করা হচ্ছে। কিন্তু টাকা দিলে কাগজের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীতা কমে যায়।’
সবার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারের নীতির সঙ্গে বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

