একাত্তর বাংলাঃ নানা জটিলতার মুখে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কার্যক্রম।
প্রথম দফায় ২৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদের পর বাকি দু’দফায় আরো সাড়ে ১৮০০ স্থাপনা উচ্ছেদের কথা থাকলেও উচ্ছেদ অভিযান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় বর্ষা মৌসুমে নগরীর জলবদ্ধতা আরও প্রকট আকার ধারনের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
অবশ্য জেলা প্রশাসন বলছে, বাজেট স্বল্পতার পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে উচ্ছেদ বন্ধ রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো ২০১৫ সালে। আর এস জরিপ অনুযায়ী সে সময় ২ হাজার ২১২টি স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছিলো। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করতে চার বছর লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে উচ্ছেদ শুরু হলেও ১০ ফেব্রুয়ারির পর থেকে আবারো বন্ধ হয়ে যায়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ২০১৫ সালে যে অবৈধ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করেছিলাম, ৩ বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে নতুন করে সীমানা পিলার দিয়ে চিহ্নিত করতে হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে নগরীতে জলবদ্ধতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসাবে কর্ণফুলী নদীর দু’তীরের অবৈধ দখলকেই দায়ী করে আসছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত চাক্তাই-রাজাখালী খালসহ আশপাশের অন্তত ১০টি খালের মুখ দখলমুক্ত না হওয়ায় জলবদ্ধতা প্রকট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খাল ও নদী রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক শাহরিয়ার খালেদ বলেন, তাড়াতাড়ি দখলদারদের উচ্ছেদ করা না হলে শহরের পানি যেসব খাল দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে যায় সেগুলো বাধাগ্রস্ত হবে। চট্টগ্রাম মহানগরী জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে।
স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, সরকারের কাছে দাবি কর্ণফুলীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জনগণের সম্পদ ফিরিয়ে দিবেন।
উচ্ছেদের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত জায়গা দখলে রাখার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকার চাহিদা দেয়া হলেও পাওয়া গেছে মাত্র ২০ লাখ টাকা। এর মাঝে কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে নতুন করে মাষ্টার প্ল্যান নেয়ায় সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। সব জটিলতা কাটিয়ে কবে নাগাদ পুনরায় উচ্ছেদ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, আদালতে রিপোর্ট পাঠিয়েছি। এখন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।
প্রথম দফায় নগরীর সদরঘাট এবং মাঝিরঘাট এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে ১০ একর জায়গা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সে সাথে দখল মুক্ত করা হয়েছিলো ৫টি খালের মুখ।

