স্টাফ রিপোর্টার :
ত্রিশাল ইউএনও আব্দুল্লাহ আল জাকির এর বদলী আদেশ , তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ ও বইলর ইউপি চেয়ারম্যানের লিঘ্যাল নোটিশ এর পর রাতের আধাঁরে উপজেলা চত্বর থেকে আশ্রয়ন প্রকল্পের ইট ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রি অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়ার ঘটনার রহস্য নিয়ে জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরে চাপের মধ্যে রয়েছেন ত্রিশালের বিদায়ী ইউএনও। বার্ষিক উন্নয়ণ তহবিল এডিপির ৩০ লাখ টাকা দিয়ে “পরিষদ কক্ষ” আধুনিকায়নে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে দুদক চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এবার প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যায় বরাদ্ধে আশ্রয়ন প্রকল্পের ১০০টি ঘর নির্মাণের কাজ কোনরকম টেন্ডার ছাড়াই করার ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ এর মুখোমুখি হতে হচ্ছে ইউএনও জাকিরকে । অন্য দিকে গত ১৫ জুলাই ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার থেকে জারি করা এক আদেশে ত্রিশাল ইউএনও কে গফরগাঁওয়ে বদলী করা হয়। কিন্তু ইউএনওর বদলী আদেশ প্রত্যাহার করতে এ্কটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্লাস বর্জন করে মানব বন্ধন করানোর ঘটনায় জনমনে চরম ভাবে বিতর্কিত হয়ে পড়েন। ইউএনও জাকির এর নানা কর্মকান্ড নিয়ে অভিযোগ, বিতর্ক , আলোচনা-সমালোচনা দানা বাধে। এখনও তিনি ত্রিশাল কর্মস্থলেই রয়েছেন। এসব বিষয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় ফলে তিনি ত্রিশাল জুড়ে তোলপাড় চলে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে চাপের মুখে আছেন। এমতাবস্থায় ১৪ জুলাই উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে আশ্রয়ন প্রকল্পের ইট, ও নির্মাণ সরঞ্জামাদি তড়িগড়ি করে সরিয়ে ফেলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায় যে, ৩টি ট্রলি থেকে মালামাল সরিয়ে নেয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে ছিল ব্যাপক রাখঢাক। আশ্রয়ন প্রকল্পের নামে বিভিন্ন ইটভাটা থেকে ৫ লক্ষাধিক ইট সংগ্রহ করা হয়। নিম্মমানের এসব ইট সংগ্রহে মোবাইল কোর্টের হুমকির কথাও বলেছেন কেউ কেউ।
সূত্র মতে , আশ্রয়ন প্রকল্পের নিম্মমানের ইট কেলেংকারী ঢাকতেই তড়িঘড়ি ইট সরানোর ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রে জানা যায় যে, ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে সরকারী অর্থ আত্বসাৎ করা হয়। ২ কোটি টাকার কাজে টেন্ডার কল করা হয়নি। সরকারের প্রকিউরমেন্ট মোট বিধি লঙ্গন করা হয়। অথবা বরাদ্ধকৃত অর্থ উত্তোলন করেন ইউএন ও জাকির । এই অভিযোগেই বইলর উইপি চেয়ারম্যান খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান এর পক্ষে জজকোর্ট এর আইনজীবি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইউএনওর বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন। সেখানে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে উত্তোলিত অর্থ ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল জাকিরকে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে ফৌজধারি মামলা দেওয়ার কথা লিগ্যাল নোটিশে জানানো হয়।
সুত্রমতে , দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দিতেই ইউএনও জাকির ত্রিশাল থেকে বদলীর আদেশ স্থগিত করতে নানা পায়তারা চালাচ্ছেন।

