একাত্তর বাংলা
ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে আরও এক জোড়া ট্রেন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দুই প্রান্ত থেকে আসা-যাওয়া করা এই ট্রেনটির নামকরণ করা হচ্ছে আন্তনগর ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকেই এই ট্রেনটি যাতায়াত শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১ ডিসেম্বর ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে প্রথম ট্রেনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর অভাবিত সাড়া পাওয়ায় যাত্রীদের সুবিধার্থে এই রেলপথে আরেকটি ট্রেন চালুর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে রেল বিভাগ। ওই চিঠিতে বলা হয়, ট্রেনটি রাত আটটায় কক্সবাজার থেকে ছাড়বে। ঢাকায় পৌঁছবে ভোর সাড়ে চারটায়।
ঢাকা থেকে সকাল সোয়া ছয়টায় ছেড়ে ট্রেনটি কক্সবাজারে পৌঁছবে বেলা তিনটায়।
রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক নাজমুল ইসলাম এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোটের পর আগামী ১০ জানুয়ারি নতুন ট্রেনটি চলাচল শুরু করবে।
সূত্র জানায়, ট্রেনটির নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। এটি হবে কোরিয়া থেকে সম্প্রতি আনা কোচবহরের একটি নতুন ট্রেন।
ঢাকা-কক্সবাজার পথে এখন একজোড়া ট্রেন চলাচল করে। টিকিটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাড়তি চাহিদার কারণে টিকিট কালোবাজারি হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, ট্রেন বাড়ানো হলেও নতুন ট্রেনে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হবে না। আগের ট্রেনটির সমান ভাড়াতেই এই ট্রেনে যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন।
বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের সময় রেলের বিভিন্ন রুটে নাশকতার ঘটনা ঘটলেও ঢাকা- কক্সবাজার ট্রেনে টিকিটের চাহিদা শুরু থেকেই আকাশচুম্বী। প্রতিদিনই এই ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিদের হাতে চলে যাচ্ছে। নতুন ট্রেন চালু হলে কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য কমবে বলে মনে করেন রেলের ওই সূত্র।
প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৩৪৬ কিলোমিটার। এই পথে আন্তনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ধরা হয়েছে ৫০০ টাকা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) চেয়ারের ভাড়া ৯৬১ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং ঘুমিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যেক যাত্রীকে ভাড়া দিতে হয় ১ হাজার ৭২৫ টাকা।

