একাত্তর বাংলাঃ বিগত ৯ বছর যাবৎ ঢাবি’র ক্যাম্পাসে নেই ছাত্রদল। সর্বশেষ ২০১৪/১৫ তে ভিসির আমন্ত্রনে ঢাবি’তে পা দিয়েছিলো ছাত্রদল কিন্তু সেটাও ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে ছাত্রদলকে। ডাকসু নির্বাচনে সময়সীমা ঠিক হওয়ায় বিপাকে পড়েছে ছাত্রদলের অংশগ্রহণ, বয়স সংক্রান্ত জটিলতা ও তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান গণমাধ্যেমে বক্তব্য রেখেছেন।
ছাত্রদলকে নিয়ে সমালোচনা ও ডাকসু কেন্দ্রিক তাদের ভাবনা নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন: এটা আসলে আমাদের প্রচারণার অভাবে হচ্ছে। আমরা বিগত ১০ বছর যাবৎ ক্যাম্পাসে যেতে পারছি না। এতে আমাদের কথা ও আমাদের যে যুক্তিগুলো হয়তো আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করতে পারছি না বলেই তাদের মাঝে একটা নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে বয়সের ব্যাপারটা সামনে তুলে আনা হয়েছে। অতীতে কখনোই ছাত্ররাজনীতি বয়সের ধরাবাধা নিয়মের মধ্যে ছিলো না।
আকরামুল হাসান যুক্তি দিয়ে বলেন: আমরা যদি দেখি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অবস্থায় ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার প্রায় দুই যুগ পরে সুলতান মনসুর প্রায় ৪০ বছর বয়সে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। এখানে বলা হয়েছে যুগের পরিবর্তন হয়েছে। তাহলে মুজাহিদুল ইসলাম ও সুলতান মনসুরের ব্যাপারটিকে কিভাবে বিবেচনা করবেন? শুধুমাত্র একটি সংগঠনের নেতিবাচক প্রচারণার কারণে তাদের মনে হচ্ছে যে শুধু তরুণরাই ছাত্রদের পক্ষে কথা বলতে পারে। দীর্ঘদিনের বাংলাদেশের রাজনীতির যে টানাপোড়েন ও গণতন্ত্রহীনতা, তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতেই কিন্তু ছাত্রদলের নেতাদের যৌবনের যে স্বর্ণালী সময়টা তা পার করেছে। দেশের ছাত্রসমাজ ও গণতন্ত্রের পক্ষে তাদের এই যৌবনটা ব্যয় করেছে।
তিনি আরো বলেন: আমরা সহাবস্থানের কথা বলেছি। হল এবং ছাত্র সংসদ ফি প্রদান করে তাদের সকলকে ভোটার এবং প্রার্থী হওয়ার সুযোগ প্রদানের ব্যাপারে আমরা দাবি তুলেছি। আমরা দাবি তুলেছি ভোট কেন্দ্রগুলি হলে হলে না রেখে একাডেমিক ভবনগুলোতে স্থাপনের জন্য। সিসি টিভির আওতায় আনার দাবি করেছি। প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বয়সসীমা তোলে দিতে দাবি করেছি। এই সব দাবি পূরণ না হলে তো অনেকে সংক্ষুব্ধ হবেন। নিজেদের মৌলিক অধিকার তথা ভোট বা প্রার্থী হতে না পারলে এখানে তো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা ব্যাপারগুলো নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। তখন কিন্তু এই নির্বাচনটা ভণ্ডুল হওয়ার বা বাধাগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
এ সময় তিনি আরো বলেন যে, আমরা আশংকা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দূরভিসন্ধির অংশ হিসেবেই যেন ডাকসু নির্বাচন কার্যকর না হয় তার জন্য বিভিন্ন রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। আর ৩০ বছর বয়সসীমা করা হয়েছে শুধুমাত্র একটি ছাত্রসংগঠনের নেতাদের জন্য। আমি বিশ্বাস করি, এখানে বয়স বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না। বরং ছাত্ররা তাদের অধিকার আদায়ের পক্ষে ছাত্রদলকে অতীতে যেমন তাদের পক্ষের ও আস্থার শক্তি মনে করেছে। আগামী দিনেও ছাত্রদলকে তাদের আস্থার প্রতীক মনে করবে। তাদের রায় প্রয়োগ করবে।

