মোঃ শাকিল জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৬ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ
জেলা শহরের পাশাপাশি জামালপুরের গ্রামাঞ্জলেও গড়ে ওঠেছে একাধিক কিশোর গ্যাং। আর এসব গ্যাংয়ের দৌরাত্মের শিকার হচ্ছে এলাকার সাধারন মানুষ। চুরি, ছিনতাই, যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধে যুক্ত হচ্ছে এসব গ্যাংয়ের উঠতি বয়সী কিশোররা। এসব কিশোরদের পরিবার বলছে, কোন পথ অবলম্বন করেও তাদের এ বিপথ থেকে সরানো যাচ্ছে না। সম্প্রতি, জামালপুর সদর উপজেলার ইটাইল ইউনিয়নের রুহিলী কচুয়ারপাড় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আক্রমনের শিকার হয়েছে সৈয়দ আলী মন্ডলের পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে ধান খেতে খড় জমানো নিয়ে সৈয়দ আলীর দুই ছেলে নিশাত (২২) ও জিহাদ (১৫) এর সাথে পাশ্ববর্তী এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে নাঈম (১৬) এর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ইটাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান (গোপন) এর ছেলে সৈকত হাসান মাহিন (১৮) এর নেতৃত্বে ১০-১৫ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ওইদিন রাতেই ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী মন্ডলের পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে ওই গ্যাংয়ের সদস্যরা কুপিয়ে টিন কেটে দরজার খিল (লক) খুলে। এরপর ঘরে ঢুকে সৈয়দ আলী মন্ডলের স্ত্রী নার্গিস সুলতানা (৪০) ও দুই ছেলেকে বেদরক পেটাতে পেটাতে টেনে হিচড়ে ঘর থেকে বাইরে বের করে আনে। পেটানোর এক পর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ঘরে ঢুকে ঘরে থাকা জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করতে থাকে। এরপর ঘরে থাকা জমি বিক্রির নগদ টাকা লুট করে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। লুটের টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে জানান তারা। ভুক্তভোগী নিশাত মিয়া বলেন, মঙ্গলবার বিকালে আমাদের সাথে নাঈমের সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের দলের নেতা চেয়ারম্যানের ছেলে মাহিনের নেতৃত্বে রাতেই আমাদের উপর হামলা করা হয়। আমাদের দুই ভাই ও মাকে মেরে ঘরের সব জিসিনপত্র ভেঙ্গে ঘরে থাকা নগদ ৬ লাখ টাকা নিয়ে চলে যায় তারা। আমাকে দা দিয়ে হাতে কুপ দিয়ে আহত করে। আমার মা ও ছোট ভাই এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। প্রতিবেশী লিমা বেগম জানান- কিশোর গ্যাংয়ের পোলাপান প্রথমে সৈয়দ আলী মন্ডলের দুই ছেলেকে মারতে থাকে তা দেখে তাদের মা আটকাতে গেলে তাকেও মারতে শুরু করে ওই গ্যাংয়ের পোলাপান। এরপর ঘরে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে তারা চলে যায়। পরে জানতে পারি জমি বিক্রির ৬ লাখ টাকা ছিল ঘরে।
ইটাইল ইনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমাদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যানের ছেলে মাহিনকে নিয়ে এর আগেও অনেক বিচার সালিস হয়েছে। কিন্তু এরপরও এই ছেলে বিভিন্ন জায়গায় নানা অপরাধ করে বেড়ায়। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা আগের সব অপরাধকে ছাড়িয়ে গেছে। এই ধরনের কিশোর গ্যাংদের থামানো না গেলে অপরাধের মাত্রা দিনদিন বাড়তেই থাকবে। ইটাইল ইনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান (গোপন) জানান- এই ঘটনার সাথে আমার ছেলে জড়িত না। সে ঘটনাস্থলের পাশে ছিল। চিৎকার চেচামেচি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মারামারি থামাতে গিয়েছিল বলে জানান তিনি। নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নূর মোহাম্মদ জানান, এই ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

