জাপা চায় ৭২ টি আ’লীগ দিতে চায় ২০-২৫ টি

Date:

নিজস্ব প্রতিনিঃ-

সমঝোতা প্রশ্নে জাতীয় পার্টি (জাপা) মোট ৭২টি আসন চাইলেও ৪০টি নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ ২০ থেকে ২৫টি আসনের বেশি ছাড় দিতে রাজি নয়। আগামী ১০ ডিসেম্বর রবিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জাতীয় পার্টির দাবিসংবলিত তালিকা যাবে গণভবনে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে জাপার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আরেক দফা বৈঠক গুলশানে হওয়ার কথা রয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জাপার সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য গঠিত আওয়ামী লীগ টিমের এক সদস্য বলেন ‘মূলত জাতীয় পার্টির জনপ্রিয় নেতাদের আসন অনুযায়ী একটি তালিকা গণভবনে যাবে; যারা কি না ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচনে জনগণের ভোটে জয়ী হতে পারবেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নেত্রী (শেখ হাসিনা) যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করবেন।’

গত বুধবার রাতে প্রথম দফায় জাপার নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের বৈঠক হলেও আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সেই বৈঠকের পর দিন গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে নির্বাচনের আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।  তবে জাতীয় পার্টি দল হিসেবে অনেক কথাই বলতে পারে। রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে তারা তো চাইবেই। বাস্তবে কী হবে, সেটি পরে দেখা যাবে। চাইতে তো কোনো দোষ নেই, আশা বড় থাকাই ভালো। আসন ভাগাভাগির বিষয়টি আমি জানি না, এটি জানিয়ে তিনি বলেন, আসন ভাগাভাগি হয়েছে এমন কোনো আলোচনাও হয়নি। আমরা রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেছি।

জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা নিয়ে এত লুকোচুরি কেন? এ প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার। কারণ, নির্বাচনবিরোধী শক্তিগুলো যে অপরাজনীতি করছে, সেটি মোকাবিলার জন্য আমাদের মধ্যে একটা সমন্বয় করা দরকার। এ জন্য আমরা আলাপ-আলোচনা করছি। এখানে লুকোচুরির কোনো ব্যাপার না।’

একই দিনে পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়নি। তার প্রয়োজনও নেই। আমরা বিশ্বাস করি, এবার জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

গত বুধবার রাতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে গুলশানের একটি বাসায়। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। জাপা নেতাদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ও কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

সে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা জাতীয় পার্টির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছেন। তাহলে আসন নিয়ে এত সমঝোতা কেন? নির্বাচন অধিক সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। যার আসনে জনপ্রিয়তা বেশি তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারবেন। দ্বাদশ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হতে হবে। এখানে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। আপনারা আপনাদের প্রার্থীদের নিজের যোগ্যতায় নির্বাচন করার তাগাদা দেন।’ পরে দুই দলের নেতারা আসন্ন নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী  লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাপার বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবেন আওয়ামী লীগের নেতারা। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির নেতাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত সে বিষয়েও  আলোচনা হতে পারে। আজ রাতে গুলশানে জাপার নেতাদের সঙ্গে আরেক দফায় বৈঠক করবেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এই বৈঠকে জাপার নেতাদের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম  বলেন, ‘নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করার বিষয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। বৈঠক আরও হবে। আমরা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে রয়েছি। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিরও ভূমিকা রয়েছে। এসব বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।’

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘গণমাধ্যমে অনেকে বলেছেন আমরা ৪০টি আসন চেয়েছি, কেউ বলেছেন ৩৫টি। এই আলোচনার কোনো ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকে আসন বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের বিপক্ষের ভোট অনেক বেশি। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসার মতো পরিবেশ পেলে ’৯১ সালের মতো একটা নীরব ভোটবিপ্লব হয়ে যেতে পারে। তাই আসন বণ্টনের বিষয়ে আলোচনার খুব একটা প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।’ জাপা মহাসচিব জানান, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে জাপা নেতারা আওয়ামী লীগকে নানা পরামর্শ দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

Subscribe

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শহীদকে জড়িয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সম্প্রতি জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের...

ময়মনসিংহে উদ্দীপন কুমির খামার পরিদর্শন করেছেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হাতিবেড় গ্রামে অবস্থিত...

ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা শাখার দুটি অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ মাদক ব্যবসায়ী

একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক...

বকশীগঞ্জ হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

মাসুদ উল হাসান ॥ জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ১০১ শয্যায়...
LATEST NEWS
গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শহীদকে জড়িয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ময়মনসিংহে উদ্দীপন কুমির খামার পরিদর্শন করেছেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা শাখার দুটি অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ মাদক ব্যবসায়ী বকশীগঞ্জ হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সব ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করেই তড়িগতিতে স্টিল আর্চ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে-এমপি ওয়াহাব আর্ন্তজাতিক মানের বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বিকেএসপি নির্মাণ হলে খেলাধূলার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে-এমপি ওয়াহাব গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল-তথ্য প্রতিমন্ত্রী চৌকস ওসি নাজমুস সাকিব এর নেতৃত্বে শাওন হত্যার আসামীরা গ্রেফতার ময়মনসিংহে হতদরিদ্রদের মাঝে নবনির্বাচিত এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দের ইফতার বিতরণ বিএনপি হচ্ছে সে রকম একটি দল-যাদের পরিকল্পনা রয়েছেঃ তারেক রহমান