একাত্তর বাংলাঃ ছয় বছরেও শুরু হয়নি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় চার পুলিশ সদস্য হত্যা মামলার বিচার কাজ। ২০১৩ সালের এই দিনে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যদের। ধরাছোঁয়ার বাইরে মামলার অধিকাংশ আসামী। তবে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর ২০১৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় তাণ্ডব চালায় জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা। জ্বালাও পোড়াও থেকে বাদ পড়েনি সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ৪ পুলিশ সদস্যকে। ঘটনার প্রতিবাদ করায় আওয়ামী লীগের কর্মীকে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৮৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৫ থেকে ৬ হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করে।
এরপর ২০১৪ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল আজিজকে প্রধান আসামী করে ২শ ৩৫ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ঘটনার ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচারকাজ শুরু না হওয়ায় হতাশ ও ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।
তবে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া জানান, মামলাটির চার্জশিট দেয়া হয়েছে এবং বিচার কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গাইবান্ধা জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. শফিকুল ইসলাম জানান, চার্জশিট দাখিলের পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমানে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার প্রধান আসামি জামায়াত নেতা আবদুল আজিজসহ ৬ জন পলাতক আর বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছে।

