একাত্তর বাংলাঃ সুনামগঞ্জের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত হলেন মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক কাঁকন বিবি। বৃহস্পতিবার বিকেলে দোয়ারাবাজারে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
গতরাতে, সিলেট ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়া এই মহিয়সী নারীর স্মৃতি রক্ষায় নানা উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে, কাঁকন বিবির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি, শোক প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক তারামন বিবি।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে, সিলেটের ওসমানী মেডিকেল থেকে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঝিরারগাঁওয়ের বাড়িতে নেয়া হয় বীরপ্রতীক কাঁকন বিবির মরদেহ। দুপুর তিনটায়, স্থানীয় মাঠে তাঁর জানাজা হয়।
এতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
জানাজা শেষে তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন। পরে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান শেষে কাঁকন বিবিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বুধবার সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কাঁকন বিবি। চিকিৎসকরা জানান, বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৯ শে মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বীরপ্রতীক ও মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি।
১৯১৫ সালে ভারতের মেঘালয়ের নেত্রাই হাসিয়া পল্লীর একটি গারো পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কাঁকন বিবি।
পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ঝিরাগাঁও গ্রামে তিনি বসবাস শুরু করেন।
১৯৭১ সালে মাত্র তিনদিন বয়সী কন্যাসন্তানকে রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। নয়টি সম্মুখযুদ্ধ অংশ নেয়াসহ দেশের পক্ষে তথ্য সংগ্রহ করার অনবদ্য অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে এই মহিয়সী নারীকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে সরকার।

