টেকনাফ প্রতিবেদক
একমাস পর আবারও সীমান্ত লাগোয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত সোমবার থেকে গোলাগুলির শব্দে ক্ষণেক্ষণে কেঁপে উঠছে সীমান্ত এলাকা। টেকনাফ সীমান্তঘেঁষা হোয়াইক্ষং, হ্নীলা ও শাহ পরীর দ্বীপের বাসিন্দারা গুলির শব্দে আতঙ্কে দিন পার করছেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
নাফ নদীর ওপারে কয়েক কিলোমিটার দূরেই মিয়ানমারের মংডু শহর। সেখানে নতুন করে শুরু হয়েছে সংঘাত। আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াইয়ে অনেকটা কোণঠাসা জান্তা বাহিনী। এরপরও আরাকান আর্মিকে ঠেকাতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
মিয়ানমারে সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। গোলার শব্দে ভয় আর শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন সীমান্তের বাসিন্দারা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা যারা সীমান্ত পারের মানুষ আছি, আমাদের এখানে কয়েকদিন পরপর বিকট শব্দ শুনতে পাই। এ অবস্থায় এখানকার যারা মানুষ আছেন, কৃষক বা জেলে তারা খুব আতঙ্কে আছেন। মুহুর্তেই আবার কখন যে গোলা এসে আমাদের বাড়ি ঘরে পড়ে, সেই আতঙ্কে আছি। আমাদের ছোট ছোট ভাই ও বোনেরা যারা স্কুলে যায়, তারাও স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে।’
এদিকে, সংঘাতের কারণে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে, জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাজ করছেন সবাই। পাশাপাশি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে আছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে। এখান দিয়ে রোহিঙ্গা আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা যারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আছি আমরাও কাজ করছি। আমরা সবাইকে বলছি, কোনো কিছু দেখলেই যেন আমাদেরকে জানায়।’
গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে উত্তর রাখাইন ও প্রতিবেশী দক্ষিণ চিন রাজ্যে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। গোষ্ঠীটি বলছে, রাখাইনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সেনা সদরদপ্তরের দখলের পর এখন তারা রাজ্যটির রাজধানী সিত্তের দখল নিতে অগ্রসর হচ্ছেন।
সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহীদের এ সংঘর্ষের রেশ দেখা গেছে বাংলাদেশ সীমান্তেও। মিয়ানমার থেকে আসা গোলার আঘাতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দিনভর সংঘর্ষ, আর ওপার থেকে ভেসে আসা তীব্র গোলা–বারুদের শব্দে আতঙ্ক কাটছে না মিয়ানমার সীমান্তে থাকা বাংলাদেশি জনপদগুলোতে।
এরমধ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘাতে টিকতে না পেরে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম দফায় ৩৩০ জন এবং এ মাসে ১৭৯ মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) ও সেনা সদস্য বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। প্রথমদপায় সীমান্ত পেড়িয়ে আসাদের গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুই ধাপে সমুদ্রপথে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
জান্তা বাহিনীর বোমা হামলায় ২৩ রোহিঙ্গা নিহতজান্তা বাহিনীর বোমা হামলায় ২৩ রোহিঙ্গা নিহত
থাইল্যান্ড ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ইরাবতি এক প্রতিবেদন জানিয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিজিপি সদস্যদের ফেরানোর বদলে জান্তা সরকারের কারাগারে থাকা ২০০ বাংলাদেশি বন্দিকে মুক্তি দিতে চায় মিয়ানমার। বন্দি বিনিময়ের এই প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে।
ইরাবতির প্রতিবেদন বলছে, এপ্রিলের শুরুতে এই বিনিময় সম্পন্ন হতে পারে। বিজিপি সদস্যদের মধ্যে অন্তত একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

