কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের স্টেশনের টিকিট কালেবাজারীদের দৌরাত্ম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্টেশনের আশপাশের লোকজনসহ মহিলা এমনকি শিশুরাও অর্থের লোভে উৎসাহিত হয়ে এ পেশায় জড়িয়ে যাচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না স্টেশনে কর্মরত রেলের নিরাপত্তা বাহিনী পুলিশ ও রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।
বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে ও রেলওয়ে স্টেশন জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন থেকে শুরু করে স্টেশন প্ল্যাটফর্মের ভিতর বাহিরের দোকানপাটগুলোতেও চলছে টিকিট কালোবাজারীদের এর রমরমা ব্যবসা। টিকিট কাউন্টারের ভেতরের চিত্র আরো ভয়াবহ।
প্রতিদিন ভোরে কাউন্টারের ভেতরের কলাপসিবল গেইট খোলার সাথে সাথেই মূল অফিসেই ঢুকে যায় ১৫/২০ জন টিকিট কালোবাজারী। কলাপসিবল গেইট খুলতে দেরি হলে তাদের সাথে থাকা দ্বি-নকল চাবি দিয়েই গেইট খুলে ঢুকে যায় কালোবাজারীরা।
কাউন্টারের কর্মরত কাউন্টার মাস্টার কাউন্টার খোলার আগেই এসব কালোবাজারীদের জন্যে আলাদাভাবে টিকেট কেটে চড়ামূল্যে কালোবাজারীদের হাতে পৌঁছে দেয়। অথচ কাউন্টারের সামনে সাধারণ যাত্রীরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করলেও প্রত্যাশিত টিকেট পাচ্ছেন না।
কাউন্টার খোলার সাথে সাথেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ যাত্রীদের ১০/১২ জন টিকিট পেলেও পরক্ষণেই টিকেট শেষ বলে জানানো হয়। পরেই হতাশাগ্রস্থ সাধারণ যাত্রীরা বাধ্য হয়ে দৌঁড়ায় টিকিট কালোবাজারীদের নিকট ধন্যা দেয়। সেখানেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় আরো।
১২৫ টাকার শোভন টিকিটগুলো বিক্রি হয় ২৫০-৩০০ টাকায়, ১৫০ টাকার শোভন চেয়ার টিকিট বিক্রি হয় ৩৫০-৪০০ টাকায়। ঈদ বা পার্বনে এর দাম আরো বেশী। সাধারণ যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ রেল স্টেশনে কর্মরত জিআরপি পুলিশের নাকের ডগায় টিকিট কালোবাজারীরা এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ রেলওলে থানার ওসি আব্দুর রহমান বিশ্বাস জানান, অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

