কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার তেরিপট্টিস্থ হকার মার্কেট নিমার্ণের জন্য নির্ধারিত স্থানটি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ীরা দখল করে নিয়েছে। ফলে ৫০ কোটি টাকা মূল্যের ২০ শতাংশ ভূমি বেহাত হতে চলছে। পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেট নির্মাণের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে উক্ত স্থানটি নির্ধারণ করে। কিন্তু প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থিত ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পৌর কর্তৃপক্ষ হকার মার্কেট নির্মাণ থেকে পিছু হটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী নেতারা জানান, তেরিপট্টি বড় বাজরের শাহাবুদ্দিন মার্কেট ও রং বিতান নামক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে পেছনে প্রায় ২০ শতাংশ খাস জমিটি দখল করে হার্ডওয়ারী, সেনিটারি মালামাল ও কাপড় ব্যবসায়ীদের ১০ জনের একটি দল বিভিন্ন মালামাল রেখে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে।
বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান গনি জানান, ভূমিটি উদ্ধার করে এখানে পৌর কর্তৃপক্ষ এখানে একটি বহুতল হকার মার্কেট নির্মাণ করলে বড় বাজার তেরিপট্টিসহ শহরের অধিকাংশ এলাকার যানজট নিরসন হবে বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, দখলদার সবাই অর্থশালী ও প্রভাবশালী। তাই দীর্ঘদিন ধরে তারা ভূমিটি অবৈধভাবে দখল করে নির্বিঘ্নে তাদের মালামালসহ অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করে রেখেছেন।
পৌর নগর উন্নয়ন কমিটির সদস্য নারী নেত্রী বিলকিস বেগম বলেন, শহরের যানজটের অন্যতম কারণ হকাররা সবগুলো মূল সড়কের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছে। তাদের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। তাদের কাছে থেকে নিম্ন আয়ের মানুষ নানা মালামাল ক্রয় করে জীবন পরিচালনা করছে।
তাছাড়া শহরের বেকার যুবকদের একটি বড় অংশ হকার ব্যবসায় সংযুক্ত হয়ে জীবিকার পথ বেছে নিয়েছেন। হকারদের নির্ধারিত কোন মার্কেট না থাকায় সারা শহরে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের ব্যবসা। ফলে যানজটসহ নানা সমস্যার মধ্যে পড়ে পৌরবাসীদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ওই জমিটি উদ্ধার করে এখানে একটি বহুতল হকার মার্কেট নির্মাণ করা একান্ত জরুরী।
বৌলাই গ্রামের হকার আলমাস মিয়া, বত্রিশ এলাকার তপন দাসসহ একাধিক হকার জানান, ব্যবসা করার জন্য শহরে তাদের কোন নির্দিষ্ট স্থান নেই। ফলে বাঁচার তাগিদে তারা সারা ঘুরে সুযোগ মতো বসে পড়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা পৌর মেয়রকে একটি হকার মার্কেট নির্মাণের কথা অনেক আগেই বলেছেন। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ বাস্তবে কোন কাজ করছে না। শত শত বেকার যুবকদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য তেরিপট্টির ওই জায়গায় একটি মার্কেট নিমার্ণের জন্য তারা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পৌর মেয়র মোঃ পারভেজ মিয়া জানান, বেকার সমস্যা তীব্র হওয়ায় শহরে হকারদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। তারা শহরের রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করায় শহরবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। একটি হকার মাকেট নির্মাণের জন্য তেরিপট্টির ওই ভূমিতে প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীরা জায়গাটি দখল করে রাখায় হকারদের দাবিটি পূরণ হচ্ছে তা। আমি প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি-তারা ভাল কাজের জন্য অর্থাৎ হকার মার্কেট নির্মাণ কাজের জন্য জমিটি পৌরসভাকে দিতে চায়। তাছাড়া পৌর নগর উন্নয়ন কমিটির সকল সদস্যই এ ব্যাপারে একমত প্রকাশ করে কাজ শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন। ভূমিটি উদ্ধার করতে হলে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষ এক হয়ে কাজ করতে হবে। অন্যথায় ভূমিটি উদ্ধার করা সম্ভব নয়।
উক্ত ভূমির দখলকার রং বিতানের মালিক আবুল কাসেম, সেনিটারি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দিলু, কাপড় ব্যবসায়ী শহীদ মিয়া কে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, তাদের ব্যবসার জন্য ভূমিটি তাদের খুব বেশী প্রয়োজন। প্রয়োজনে তারা প্রশাসনকে অর্থ দিয়ে ভূমিটি দীর্ঘ মেয়াদী লীজ অথবা কিনে নিতে চান। কিন্তু ভূমি ছেড়ে দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মো. আক্তার জামীল বলেন, পৌরসভা হকার মার্কেট নির্মাণ করলে এ জমি পৌরসভাকে দিতে জেলা প্রশাসন কোন আপত্তি করবে না। তবে, ওই ভূমি উদ্ধার করতে হলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সবাই এক হয়ে প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত দিলে অবৈধ উচ্ছেদ সময়ের ব্যাপার মাত্র।

