একাত্তর বাংলাঃ বার বার অভিযান চালিয়েও পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম অপসারণ করতে না পারাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুনে আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান তিনি। এ সময় তিনি এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে পুরান ঢাকাকে নতুন পরিকল্পনায় সাজানোর কথা বলেন তিনি।
পরে কথা বলেন সাংবাদিকদের সাথে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বারবার পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম সরাতে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু এখনও তা রয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। এ সময় পুরান ঢাকাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, পুরান ঢাকা থেকে যত কেমিক্যাল আছে মোবাইল কোড দিয়ে আমরা সরানো চেষ্টা করেছি দুঃখজনক সাময়িক কাজ হলেও পুরোপুরি সড়াতে পারিনি। পুরান ঢাকা নিয়ে আমাদের প্রজেক্ট তা আমরা বাস্তবায়ন করবো। যাতে পুরান ঢাকার মানুষ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। অলি গলি রাস্তা নতুন ভাবে করতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আহতদের চিকিৎসার সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আগুনে পুড়ার পর চিকিৎসার জন্য যে সমস্ত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন আমি আগেই সব কিনে দিয়েছি। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন আমাদের আছে। তাছাড়া যা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা সবাই সতর্ক হয়ে চলবেন যাতে এধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সবাইকে উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নানা ধরনের প্রশ্ন করছেন সাংবাদিকরা, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, এখন কি প্রশ্ন করার সময়? ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টার আগে রোগীর কাছে ক্যামেরা নিয়ে যাওয়া, তাকে দেখা ছবি তোলা বন্ধ করতে হবে। এতে রোগীরা ইমোশনাল হয়ে যায়, এতে তাদের ক্ষতি হয়, তাদের ইনফেকশন হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে কোন ঘটনা ঘটলে এত লোক জমে যায় উদ্ধার কাজে যাওয়ার মত রাস্তা থাকে না, উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়। ঠিক সময় উদ্ধার কাজের ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। সবাইকে এই বিষয়গুলোতে নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবো। আপনারা নানা ধরনের প্রশ্ন করে রোগীদের ইমোশনাল করবেন না।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন সরকারপ্রধান।

