লেখক-মোহিত উর রহমান শান্ত
আজাদ হত্যা মামালায় আমাকে প্রধান ( হুকুমের ) আসামী করা হয়েছিলো । এই হত্যা মামলার এক মাসের মাথায় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারতাম যদি অভিযুক্ত একজনের সাথে আমার কথোপকথন প্রকাশ করতাম ( কথা গুলি রেকর্ড করার মত হীন কাজ করেছি এই ভয় থেকে , যারা এই মামলায় আমাকে আসামী করার জন্য মরিয়া হয়েছিলেন তাদের নোংরা মানুষিকতা আমার জানা , তারা নোংরামির সবটুক দিয়ে আমাকে ফাঁসাবে )। নিজেকে বাঁচানোর জন্য এই পন্থাকে অত্যন্ত নীচ, লজ্জা এবং চতুরতার মনে হয়েছে আমার কাছে , বাকি জীবন নিজের কাছে ছোট হয়ে থাকতে চাইনি। ধৈর্য ধরেছি , অপেক্ষা করেছি ।
সৈয়দ আশরাফ ভাইকে ব্যাংককে দেখতে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যখন জানতে পারি হার্ট এর ভিতর Myxoma Tumour হয়েছে , যে কোন সময় সেটা ছুটে গিয়ে মৃত্যুও হতে পারে , ওই টেবিলেই সার্জারি করতে হবে । আব্বা আম্মার মুখ না দেখে অপারেশান টেবিলে যেতে সাহস পাবনা, তাই বারন করি, যদিও ডাক্তার নারাজ ছিলেন। তারও ২২ দিন পর অপারেশান হয় । এই সময়টুকু শুধু আল্লাহ্ পাকের কাছে দোয়া করেছি আব্বা আম্মাকে যেন তাদের দুই ছেলেরই মৃত মুখ না দেখান ,আর যদি তাই হয় অন্তত আজাদ হত্যা মামলা নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত আয়ু দেন যেন প্রমান করে যেতে পারি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান খুনি সন্তানের পিতা না । আল্লাহ্ পাক আমার দোয়া শুনেছেন আলহামদুলিল্লাহ । আমার এই মানুষিক অবস্থার মধ্যে শহরে শুধুমাত্র আমার নাম ধরে বিচারের দাবীতে বার বার মিছিল-মিটিং-সাংবাদিক সম্মেলন করানো হয় । প্রথম আলো সহ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করানো হয় । এক পর্যায় সাধারণ মানুষ আর আমার দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা কর্মীবৃন্দ ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পক্ষে কর্মসূচী দেয় । সেই কর্মসূচির রূপ এতটাই ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে, তাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাঃ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের তা বন্ধের নির্দেশ দেন এবং আমিও হসপিটালের সজ্জা থেকে সম্মতি জানাই।
তারপর প্রথমে পুলিশ পরে সি.আই.ডি এবং পি.আই.বি তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মাননীয় আদালত আমি সহ দলের ভীষণ দুঃসময়ের ১৫/১৬ জন নেতা কর্মীকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করে ।
আজাদের শোকার্ত পরিবারের এই ঘটনায় কোন দোষ নেই ,তাদের প্রতি আমার কোন ক্ষেদও নেই । সন্তান হারালে পরিবারে কি অসহ্য যন্ত্রণা হয় তার আঁচ আমার পরিবারেও লেগেছে । আজাদের পরিবারের অসহায়ত্ব এর সুযোগ নিয়ে এই সকল ঘটনা পেছন থেকে পরিচালিত করেছে একজন স্বীকৃত অনুপ্রবেশকারী আর দলের “রুহ” বিক্রি করা জেলা আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতা ।
এই কথাগুলি অবতারণা করার কারন ,
আমাদের রক্ত, শ্রমে গড়া সোপানে উঠে পড়েছে এসব অনুপ্রবেশকারীরা । নিবেদিতদের বঞ্চিত করে , তাদের আত্মাকে কষ্ট দিয়ে এদের স্ফীত হওয়া দলের জন্য অশনিসংকেত । দুর্দিনে এরা পালাবে নয়তো পাল্টাবে – লিখে রাখুন । এসব অনুপ্রবেশকারীদের লাগাম টেনে ধরতে নিবেদিতদের এখনি ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, না হলে উদ্ভুত ক্ষতি বাকী জীবনে ও পোষাতে পারবেননা – গ্যারান্টি ।
বঙ্গবন্ধুর নাম মুখে নিতে নিতে যুবক থেকে বৃদ্ধ হওয়া , ছোট্ট নরম শরীরটায় দলের সব যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানো , এক সন্তান হারানো অধ্যক্ষ মতিউর রহমান কে আরেক সন্তানের উপর মিথ্যা হত্যা মামলা চাপিয়ে এতদিন যারা যন্ত্রণার চাদরে মুড়িয়ে রেখেছিলেন তাদের রাজনীতির পরিনতি দেখার অপেক্ষায় রইলাম ……

