ভোরের কন্ঠঃ ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে আগুন লাগিয়ে ঝলসে দেয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক। তার চিকিৎসায় ৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌল্লাকে অব্যাহতি দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
ফেনীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন উচ্চ শিক্ষার আরেক ধাপ পেরিয়ে আলোকিত জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু কিছু মানুষের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আগুনে ঝলসে গিয়ে সেই রাফিকে এখন লড়তে হচ্ছে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউ’তে ভর্তি রাফির চিকিৎসায় গঠন করা হয়েছে ৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড।
চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও, দিয়েছেন সব ধরনের সহায়তার নির্দেশ। তবে শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়ায় রাফির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই জানালেন চিকিৎসকরা।
সামন্ত লাল সেন বলেন, মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছি, আমরা তাকে আইসিইউতে রেখেছি, বার্ন আছে, তবে এটা খুবই মেজর বার্ন হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে নির্দেশ আছে, যা কিছু লাগে আমরা তা দিয়ে দেখবো।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, যৌন হয়রানি মামলা করার জেরে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অভিযুক্ত অধ্যক্ষের ইন্ধনেই নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা হয়।
এ ঘটনায় অধ্যক্ষের ঘণিষ্ঠ কিছু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাংশ জড়িত বলেও অভিযোগ রাফির পরিবারের।
নুসরাতের ভাই জানান, অধ্যক্ষ আমার বোন নুসরাতকে কুপ্রস্তাব দিয়ে ছিল, এটা আমার বোন প্রত্যাখ্যান করার দিন সোনাগাজি থানায় একটা মামলা করা হয়। মামলা আদালতে হস্তান্তর করা হয়। তারপর অধ্যক্ষের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এদিকে, আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আফসার হোসেন ও এক ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। আর অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌল্লাকে অব্যাহতি দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকা সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, শিক্ষার্থীকে আগুনে ঝলসে ফেলার ঘটনায় বিনা নোটিশে মাদ্রাসা বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

