চীফ রিপোর্টারঃ সদ্য অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (এমসিসি) নির্বাচনের ফলাফল বাতিলসহ যেকোনো অভিযোগ দায়েরের জন্য নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
ইসির আইন শাখার উপ-সচিব মো. শরীফ হোসেন হায়দার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে— এমসিসি মেয়র, সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের নির্বাচনে নির্বাচনী বিরোধ সংক্রান্ত দরখাস্ত অথবা আপিল গ্রহণ, শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য ময়মনসিংহের ১ম আদালতের যুগ্ম জেলা জজকে নিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও অতিরিক্ত জেলা জজ এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলো।
আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল গঠনের ত্রিশ দিনের মধ্যে ভোটের অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করা যায়। ট্রাইব্যুনাল তা নব্বই দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে। সেখানে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সুবিচার পায়নি বলে মনে করলে পরবর্তী ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। আপিল ট্রাইব্যুনাল সেই অভিযোগ নব্বই দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করেন।
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে পুরো ভোট বাতিলের আবেদনসহ যে বিচারের আবেদনও ট্রাইব্যুনালে করতে পারেন। এখানে কেউ সুবিচার পাননি মনে করলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
গত ৫ মে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১১টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সম্পূর্ণরূপে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হন।
তবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীতায় পরাজিত রা ঢালাওভাবে অভিযোগ করে চলেছেন । এই ট্রাইবুনাল গঠনের মধ্যে দিয়ে সব জল্পনা আর গুজবের নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সূতহ্রমতে, বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সুশীল ব্যক্তিবর্গ সদ্য সমাপ্ত মসিক নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এখানে ইচ্ছাপ্রার্থীতাকেই বিজয়ী ঘোষনা হয়েছে।
অভিযোগকারী খোদ আওয়ামীলীগ দলীয় (স্বেচ্ছাসেবক লীগ) সংগঠনের সভাপতি । তিনি নিজেই তার দায় দায়িত্ব নিয়ে পরিস্কারভাবে অভিযোগ তুলেছেন । যা নগর জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এছাড়াও প্রার্থীদের মধ্যে যারা এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন বা অভিযোগ তুলেছেন মহানগর যুবলীগ সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক রাসেল পাঠান তাদের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী । তিনি সিটি থেকে ৪ নং ওয়ার্ডে ২য় অবস্থানে থেকে নির্বাচনে পরাজিত হন।

