একাত্তর বাংলাঃ বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিলেও রোহিঙ্গারা এখনও রাখাইন থেকে পালিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এ অবস্থায় চলমান সঙ্কট সমাধানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াংহি লি।
এদিকে, মিয়ানমারের পাঠ্যবইয়ে মুসলিম বিদ্বেষমূলক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানান, মিয়ানমার সংলগ্ন বাংলাদেশের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই জাতিসংঘকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সময় মতো প্রত্যাবাসন না হওয়ায় আর একজন রোহিঙ্গাও নিতে পারবে না বাংলাদেশ। তবে রোহিঙ্গারা ঠিকই আগের মতোই বাংলাদেশে আসছে বলে জানিয়েছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ-কথা জানান মিয়ানমারের মানবাধিকার তদন্তে জাতিসংঘে নিযুক্ত বিশেষ দূত ইয়াং হি লি।
মিয়ানমারের পাঠ্যবইগুলোতে মুসলিমসহ সঙ্কর জাতির মানুষকে ঘৃণা করতে শেখানো হচ্ছে বলেও জাতিসংঘের তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শীর্ষ এ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ঘৃণাবাদী মন্তব্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে নাইপিদো। এ জন্য নিজেদের ব্যর্থতাও স্বীকার করে নেন তিনি।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বিশেষ দূত ইয়ং হি লি বলেন, ‘মিয়ানমারে দশকের পর দশক ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। রোহিঙ্গারা নির্যাতনের শিকার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তবুও নিষ্ক্রিয়। ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হতে থাকলে বৈষম্য বাড়বেই।’
মিয়ানমারে ঘৃণার ব্যবহার শুধু পাঠ্যবইতেই নয়, এর বিস্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও ছোড়িয়ে পড়েছে। এতে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যত প্রজন্মও মুসলিমবিরোধী হয়ে উঠছে। এর পেছনে সরকার ও সেনাবাহিনী মদদ দিচ্ছে, যা প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নির্যাতনের জেরে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

