একাত্তর বাংলাঃ ভারতের বিরোধীদলগুলো পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, পাকিস্তানের মদদে থাকা জঙ্গিদের ভারত সরকার যখন দমন করতে বদ্ধপরিকর, তখন নানা প্রশ্ন তুলে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা।
ও.আই.সি’তে ভারত নিজেদের অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি কোরে, কাশ্মীরীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীদল কংগ্রেস। এর মধ্যেই পুলওয়ামা হামলার মূলহোতা মাসুদ আজহার মারা গেছেন বলে দাবি করেছে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম।
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করছেন জনসভা, সমাবেশ। ভোট চাইছেন পাকিস্তানপন্থী সন্ত্রাসীদের দমন করে নিরাপদ ভারত গড়ার কথা বলে।
রোববার বিকেলে বিহারের পাটনায় বিজেপি’র জনসভায় মোদি বলেন, ভারতের বিরোধীদলগুলো পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলছে। কংগ্রেসসহ বিরোধীদের এমন কার্যক্রম দেশের সামরিক বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদির এমন বক্তব্য তার ব্যর্থতা ঢাকার হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। আর বিরোধীদল কংগ্রেসের অভিযোগ, শুক্রবার সংযুক্ত আবর আমিরাতে আয়োজিত মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ও.আই.সি.’র সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে ব্যর্থ হওয়ায় কাশ্মীরে ভারতের আগ্রাসনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
কাশ্মীর ইস্যুতে ওআইসি ভারতের পক্ষে নেই বলেও কংগ্রেস অভিযোগ করেছে। যদিও ও.আই.সি.’র এ-বক্তব্যের পরপর কাশ্মীর নীতি ভারতের একান্ত নিজস্ব বিষয় উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় নয়াদিল্লী।
ভারতে সরকার ও বিরোধীপক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে, পুলওয়ামা হামলার দায় স্বীকার করা সন্ত্রাসীগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার মারা গেছেন। তবে এর সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি পাকিস্তান সরকার।
পাকিস্তান প্রবাসী সাংবাদিক মাসকাওয়াত আহসান বলেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটুকু জানাতে পেরেছিলেন যে মাসুদ আজহার খুব অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। কাজেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু এটি পাকিস্তানের গণমাধ্যম থেকে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাওয়ালপিণ্ডি সেনা হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মাসুদ আজহার মারা গেছেন। তার কিডনিতে সমস্যা ছিল। চলছিল ডায়ালিসিস।

