একাত্তর বাংলাঃ শরীরটাকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সঠিক যত্ন। বেশিরভাগ মানুষ যে রোগে বেশি আক্রন্ত হয় তার নাম হৃদরোগ। আসুন জেনে নেই হৃদরোগ সংক্রান্ত কিছু সাধারণ উপদেশ, যা জেনে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন ।
১৯৭০ সালের পর উন্নত দেশে মৃত্যুহার কমে গেলেও বিশ্বব্যাপি মৃত্যুর জন্য হৃদরোগ দায়ী। একই সাথে, মধ্য ও স্বল্প আয়ের দেশগুলিতে হৃদরোগের সংখ্যা ও এর কারণে মৃত্যু দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।যদিও হৃদরোগ প্রাপ্ত ববয়স্কদের হয়, কিন্তু হৃদরোগের পূর্বাবস্থা অ্যাথেরোসক্লোরোসিস অনেক আগে থেকেই শুরু হয়।সেজন্যই পুষ্টিকর খাদ্য, শারীরিক পরিশ্রম, তামাক জাতীয় খাদ্য পরিহারের মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধের উপর জোর দেওয়া হয়।
হৃদরোগ সংক্রান্ত কিছু সাধারণ উপদেশ নিচে দেওয়া হল –
সকল প্রকার তামাক এবং তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
অতিরিক্ত তেল অথবা চর্বি যুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন,স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন করুন।
আপনার খাদ্য তালিকায় তাজা শাকসব্জি এবং ফল অন্তর্ভুক্ত করুন।
তরকারিতে পরিমিত লবণ খান, খাবারে বাড়তি লবণ মিশিয়ে খাওয়া বন্ধ করুন।
চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার যত সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
ঘাম ঝরানো শারীরিক পরিশ্রম করুন, হাঁটার সময় দ্রুত হাঁটুন। সব সময় লিফট ব্যবহার না করে যতদূর সম্ভব সিঁড়ি বেয়ে উঠার অভ্যাস করুন।
উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশন (ব্লাড প্রেসার) এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুন।
শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করুন।
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখুন, লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষাটি করে জেনে নিন আপনার রক্তে কোন ধরনের চর্বি বেশি আছে, সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিন এবং খাদ্য তালিকা তৈরী করুন।
যাদের বাবা/মা বা বড় ভাই বোনদের (পারিবারিক) হৃদরোগ আছে তারা অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করুন এবং নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তের চর্বি, ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে নিজের অবস্থান জেনে নিন।
মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন, মানসিক চাপ হৃদরোগ ঘটায়। নিয়মিত প্রার্থনা করু্ন। সম্ভব হলে মেডিটেশন করে দেখতে পারেন।
দৈনিক অল্প কিছু সময় শিশু এবং বয়োবৃদ্ধদের সাথে কাটানোর চেষ্টা করুন, বন্ধুদের সাথে প্রাণখোলা আড্ডা মানসিক প্রশান্তি আনতে পারে। সব সময় হাসি খুশি থাকবার চেষ্টা করুন।
দৈনিক পরিমিত নিদ্রা গ্রহন করুন, লক্ষ্য রাখুন আপনার দৈনন্দিন জীবনে যেন যথেষ্ট বিশ্রাম এবং বিনোদনের সুযোগ থাকে।
ছোট শিশুদের গলা ব্যথা হলে বা বাতজ্বর হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
করোনারি বা অন্যান্য জটিল হৃদরোগ হবার সুনির্দিষ্ট কোন বয়স নেই, তাই সব বয়সেই হার্টের যত্ন নেবার প্রতি সচেষ্ট হন। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

