একাত্তর বাংলাঃ কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো বহুল আলোচিত ট্রাম্প-কিম দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন। পরামাণু নিরস্ত্রীকরণ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে দুই নেতার মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায়, আলোচনা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে জানায় গণমাধ্যম। বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের হ্যানয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, পুরোপুরি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত হতে উত্তর কোরীয় নেতা রাজি না হলেও, আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহার চেয়েছেন কিম জং উন। এদিকে, সমস্যা সমাধানে আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
ভিয়েতনাম সম্মেলনের শেষ দিন বৃহস্পতিবার সকালে একান্তে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। এক পর্যায়ে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের করা প্রশ্নের উত্তর দেন কিম। বলেন, পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের ইচ্ছা না থাকলে তিনি সম্মেলনে হাজির হতেন না। পিয়ংইয়ংয়ে লিঁয়াজো অফিস খোলার মার্কিন পরিকল্পনাকেও স্বাগত জানান কিম।
কিম বলেন, অনেকে আছেন যারা এ সম্মেলন ঘিরে সন্দিহান। নিশ্চয় তারা কল্পনানির্ভর চলচ্চিত্রের মতোই আমাদের বৈঠক দেখছেন। চমৎকার এ আলোচনা আয়োজনের জন্য আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি নিশ্চিত করছি, সম্মেলন থেকে ভালো ফলাফল অর্জনে কিমের বক্তব্যের প্রশংসা কোরে উত্তর কোরিয়াকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আধঘণ্টা একান্ত বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প-কিম। এসময় স্বেচ্ছায় পরমাণু অস্ত্রত্যাগের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন কিম। বৈঠকের পর মধ্যহ্নভোজের কর্মসূচি থাকলেও যৌথ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য তা বাতিল করা হয়।
অবশেষে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে কোরীয় উপদ্বীপকে স্থায়ীভাবে পরমাণু অস্ত্রমুক্তকরণে যৌথ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা।
হোটেলে ফিরে গিয়ে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ভিয়েতনাম ত্যাগ করলেও শনিবার কিম উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন। এর আগে, ১২ই জুন সিঙ্গাপুরে প্রথমবার বৈঠক করেন তারা। ওই সময় শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দু’পক্ষের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি, কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যৌথভাবে কাজ করাসহ কোরীয় যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের দেহাবশেষ ফেরতের বিষয়ে একমত হন ট্রাম্প-কিম। বিষয়গুলো বাস্তবায়নে তখন চূড়ান্ত সময়সূচি উল্লেখ ছিল না। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করলেন ট্রাম্প-কিম।
পে-অফ কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

