আগৈলঝাড়ায় সেটেলমেন্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্বে অসহায় জমি মালিকরা
অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া,বরিশাল: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সেটেলমেন্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ব চরমে উঠেছে। এসব দালাল ছাড়া সাধারণ মানুষ সেটেলমেন্ট অফিসে কোন সেবা নিতে পারছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তার নেপথ্য মদদে ওই দালালদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। স্থানীয়রা জানান, এখানে দালাল ও কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে এতটাই মাখামাখি যে, সাধারণ মানুষের বুঝতে কষ্ট হয় কে দালাল আর কে কর্মকর্তা-কর্মচারী।
জানা গেছে, উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ এসব দালালদের খপ্পরে পরে আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। কেউ আবার সর্বস্ব হারিয়ে নি:স্ব হতে চলেছে। এসব দালালদের মাধ্যমে না এসে সরাসরি সাধারণ মানুষ কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারেনা বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাঠপর্চা, কালিপর্চা, নামজারি, খারিজ ও বিভিন্ন সংশোধনী সংক্রান্ত বিষয়ে সেটেলমেন্ট অফিসে কাজ করতে এসে দালালদের খপ্পরে পরে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে সেটেলমেন্ট অফিসে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন, এখানে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আর কারা দালাল সেটা বোঝা মুশকিল। যে কারণে আমাদের মত সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দালালদের খপ্পরে পরতে হয়। আবার অধিকাংশ সময় দালালদের মাধ্যমে না আসলে সহজে কোনো কাজ সম্পন্ন করা যায়না। দালালদের মাধ্যমে না আসলে কাজে ত্রুটি থাক বা নাই থাক কথিত অভিযোগে দিনের পর দিন হয়রানি করা হয়। তাই বাধ্য হয়ে দালালদের কাছে যেতে হয়।
উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি দলের নেতার আত্মীয়স্বজনরা নিজ সংসারের সব কিছু ফেলে রেখে যেভাবে প্রতিনিয়ত সেটেলমেন্ট অফিসে এসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দালালী করেন সেটা অনৈতিক।
তিনি বলেন এই ১৪/১৫ জন দালালের অত্যাচারে তারা নিজেরাও অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। এদিকে সাধারণ মানুষ সেটেলমেন্ট অফিসে এসব দালালদের তৎপরতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কতৃর্ক্ষপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে সহকারি সেটেলমেন্ট ও সার্কেল অফিসার অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, দালালদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

