একাত্তর বাংলাঃ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরে ভুয়া ও জাল লাইসেন্স নিয়ে ব্যাটারী চালিত অটো সারা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে । রবিবার সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে একাধিক দল মাঠে নেমে এর সত্যতা পায়।
এ সময় ভুয়া ও জাল লাইসেন্সধারী ৫টি অটো আটক করে। আটককৃত অটোর জাল লাইসেন্স ৪৩২২ চালক নজরুল ইসলাম আজমতপুর, ২০২৬ চালক আনোয়ার কুমারাগাতা মুক্তাগাছা, ১১২৮ ও ১৪২২।
এ সব লাইসেন্সের মালিক হলেন মাহবুব পিতা রুহুল আমিন, ১৬ নং ডিবি রোড ময়মনসিংহ এবং অপর লাইসেন্স নং ১২৫৪ এর চালক ওবায়দুল হক এবং লাইসেন্স এর মালিক নাজমূল কবির পিতা নুর মোহাম্মদ, সাং ৬, আকুয়া মড়লবাড়ি ।
সিটি করপোরেশন সুত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে চলাচল করতে সিটি করপোরেশন থেকে ৫ হাজার ব্যাটারী চালিত অটোকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
এ সকল লাইসেন্সধারী অটোর মধ্যে প্রতিদিন আড়াই হাজার অটো চলাচল করার নির্দেশনা রয়েছে। বিভাগীয় শহরে প্রতিদিনই ৭/৮ হাজার অটো চলাচল করছে। যাদের প্রত্যকেরই লাইসেন্স দেখা যায়। এ বিপুল পরিমাণ অটো চলাচল করায় শহরে প্রতি মুহুর্তে যানজট লেগেই রয়েছে। ফলে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে প্রশাসনের সকল মহল বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পরে। যানজট নিরসনে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগসহ সিটি করপোরেশন নিয়মিত অভিযান করে আসছে।
অভিযানকালে আইন শৃংখলা বাহিনীসহ সিটি করপোরেশন দেখতে পায় শহরে চলাচলরত সকল অটোই লাইসেন্স নিয়ে নিয়ম মাফিক চলাচল করছে। তবে নিয়ম অনুসারে প্রতিদিন আড়াই হাজার অটো চলাচলের বিধান করা হলেও প্রতিদিন কিভাবে ৪/৫ হাজার অটো চলাচল করছে তা নিয়ে সিটি করপোরেশন নতুন করে ভাবতে শুুরু করে। এক পর্যায়ে নতুন নির্দেশনা জারী করে চলাচলরত সকল অটো চালককে মূল লাইসেন্স বই নিয়ে শহরে অটো চলবে। চলাচলরত অটোতে মূল লাইসেন্স বই না থাকলে সেই অটো আটক করা হবে।
এ নির্দেশনা প্রয়োগ করার আগে সিটি করপোরেশন শহরে ব্যাপক প্রচারণা ও মাইকিং করে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, ৫ হাজার লাইসেন্সধারী অটোর মধ্যে প্রতিদিন আড়াই হাজার (জোর-বেজোড় অনুসারে) চলাচল করার নির্দেশনা রয়েছে।
ঐ নিয়ম অনুসারে অটো চলাচল করায় শহরে অটোর সংখ্যা ইতিপুর্বে খুব কমই ছিল। অনেক সময় দেখা গেছে, অটোর জন্য মানুষ বিভিন্ন পয়েন্টে লাইন ধরে দাড়িয়ে থাকতো। বর্তমানে অটোর সংখ্যা এত বেশী হয়েছে যে অটো মিনিটে মিনিটে আছে কিন্তু যাত্রী সেই পরিমাণে যাত্রী নেই। অটোর জন্য যানজট লেগেই আছে। আড়াই হাজার অটো চলাচল করা নিয়ম থাকলেও এত বিপুল সংখ্যক অটো কিভাবে চলাচল করছে তা নিয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে মূল লাইসেন্স বই অটোতে রেখে চালককে অটো চালালোর জন্য শহরে মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচারণা করা হয়।
এ লক্ষ্যে গত ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত একাধিক মাইকে সারা শহরে প্রচারণা করা হয়। তিনি আরো বলেন, মাইকিং করার পরও অটোর চালকরা তাদের অটোতে লাইসেন্স নিয়ে অটো চালাচ্ছে কিনা তা পর্যবেণ করতে শহরে একাধিক তদারকি টিম পাঠানো হয়।
রবিবার এ সকল তদারকি টিম শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় পর্যবেক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাইকালে দেখতে পায় ভুয়া ও জাল লাইসেন্স নিয়ে চালকরা অটো চালাচ্ছে।
এ সব ভুয়া ও জাল লাইসেন্সধারী চারটি অটো পুলিশ লাইন এলাকা থেকে আটক করা হয়। এছাড়া ব্রীজ মোড় থেকে একটি ভুয়া ও জাল অটো আটক করা হয়।
আটককৃত এ সব অটোর চালকদের বরাত দিয়ে আমিনুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, তারা ভাড়ায় লাইসেন্স নিয়ে অটো চালাচ্ছে। লাইসেন্স ভুয়া না জাল এ সব তারা জানেন না বলে দাবী করেন। তবে তিনি দাবী করেন, আটককৃত এ সব অটো নিয়ম অনুযায়ী ধ্বংশ করা হবে।
এছাড়া ভুয়া ও জাল লাইসেন্সধারীদের বিরুদ্ধে ফৌজধারী আইনে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিটি করপোরেশন ভাবছে।
তিনি আরো জানান, শহরে যেভাবে অটোর সংখ্যা বেড়ে চলছে এতে ধারণা করা যায় অসংখ্য অটো ভুয়া ও জাল লাইসেন্স নিয়ে চলাচল করছে।
এ সব ভুয়া ও জাল লাইসেন্সধারীদের আটক করতে এবং শহর থেকে যানজট নিরসন করতে সিটি করপোরেশনের তদারকি টিম নিয়মিত অভিযানে থাকবে।

