বদরুল আমীন, ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ২শত টাকা জরিমানা আদায় করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা সরকারকে অপসারণের দাবী জানিয়েছেন উপজেলা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক মালিক এসোসিয়েশন।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবর্ণা সরকারের অপসারণ চেয়ে ক্লিনিকে তালা বন্ধ রেখে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছেন উপজেলা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক মালিক এসোসিয়েসন।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্পূর্ণ অন্যায় এবং ভয়-ভীত প্রদর্শন করে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়গনোস্টিক মালিকদের নিকট থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ ক্লিনিক মালিকরা, ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেন তারা।

মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা সরকার বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তাগাছা শহরের নতুন বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘সততা ক্লিনিক ও ডায়গোনিস্টিক সেন্টার’ সহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়গোনিস্টিক সন্টোরে ভ্রম্যমান আদালত পরিচালিত হয়।
এ সময় সাথে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন ফারুক, ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আগত মেডিকেল অফিসার (রোগ নির্ণয়) ডাঃ খালেদ মোশারফ হোসেন ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার সৈয়দ জাবেদ হোসেন এবং মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ আব্দুল হাই, এসআই, ২-আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন -এর একটি চৌকশ দল এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের সার্বিক সহযোগিতা করে।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সময় ডায়গোনিস্টিক সেন্টার-এর হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। কোন কোন পরীক্ষা করা হয় বা সেবা দেয়া হয় তা লেখা নেই। সেবার মূল্যতালিকা নেই। একজন ল্যাব সহকারী বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করেন ও তিনিই স্বাক্ষর করেন।
আইনানুযায়ী একজন ডাক্তারের পরীক্ষার রিপোর্টে প্রতিস্বাক্ষর করার কথা। বিভিন্ন তারিখে কয়েকটি রিপোর্টে একজন ডাক্তারের প্রতিস্বাক্ষর দেখা গেলে তবে তার স্বাক্ষরের নীচে কোন তারিখ দেয়া নেই। বিভিন্ন পরীক্ষায় ব্যবহৃত রি-এজেন্ট সঠিক তাপমাত্রায় রাখা হয়নি। নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করা হলে সেইসব রি-এজেন্ট দিয়ে পরীক্ষা করা হলে কখনোই সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায় না। রেফ্রিজারেটরে বিভিন্ন ঔষধ ও ইনজেকশনের এম্পুলের সাথে দুধ ও খাবার রেখে দেয়া হয়েছে যা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর।
১০ শয্যা বিশিষ্ট ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক ১জন ডাক্তার, ২জন নার্স ও একজন ঝাড়ুদার থাকার বিধান রয়েছে। তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি ক্লিনিকে নিযুক্ত ডাক্তার বা নার্সের নামের তালিকাও পাওয়া যায়নি।

স্বল্প আয়তনের নোংরা একটি কক্ষকে অপারেশন থিয়েটার হিসেবে ব্যবহার করা হয় যাতে সার্জারীর নূন্যতম সুবিধা নেই। অপারেশন থিয়েটারে ঔষধের আলমিরা রেখে দেয়া হয়েছে। ভীষণ অপরিচ্ছন্ন পোস্ট অপারেটিভ রুমে দু’জন সদ্য সিজারিয়ান সেকশন করা প্রসূতি মাকে দেখা গেল। তাদের দেখাশুনা করার জন্য কোন নার্স বা আয়া কেউ নেই। তাই আইনানুযায়ী জরিমানা আরোপ করা হলো। প্রথমবারের মতো সতর্ক করা হলো। পরবর্তীতে সংশোধন না হলে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

