একাত্তর বাংলাঃ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে ইমন মোল্লা (১৬) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালি ইউনিয়নের চণ্ডিপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত মুল হোতা তানভীর উকিলকে (১৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত ইমন মোল্লা একই গ্রামের মৃত মামুন মোল্লার ছেলে। আটক তানভীর উকিল (১৮) খুলনা শিপইয়ার্ড এলাকার আল আমিন উকিলের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের চন্ডীপুর গ্রামের মাদ্রাসাছাত্র ইমন মোল্লা তার বন্ধু হাসিবের সঙ্গে মাহফিলে যাচ্ছিল। পথে একই গ্রামের জান্নাতি নামে এক মেয়ের সাথে কথা বলছিলেন হাসিব। এ ঘটনা দেখে তার প্রতিপক্ষ তানভীর ক্ষুব্ধ হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা মহফিলে চলে যায়। মাহফিল থেকে ডেকে নিয়ে রাস্তার উপর ফেলে তানভীর উকিল ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনের বুকের বাঁপাশে আঘাত করে। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত ইমনের চাচী জান্নাতি বেগম বলেন, রাতে ইমন ও আসিব মাহফিল শুনছিল। তখন কিছু লোক ওদেরকে ডেকে এনে বুকে ও হাতে ছুরি মেরে নির্মমভাবে হত্যা করে।
তিনি আরও বলেন, দুই বছর বয়সে ইমনের পিতা মারা যাওয়ার পর তার মা অন্য জায়গায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তারপর থেকে ইমনকে আমি কোলেপিঠে করে মানুষ করেছি। আজ ইমনের এমন মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারছি না। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি দেখতে চাই।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল হক বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাসিবের সাথে প্রেমের সম্পর্ক আছে সন্দেহে ইমনকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে তানভীর উকিল।

