এ.বি.এম লুৎফর রাশিদ রানা, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই এর সপ্তাহব্যাপী ১৯৯তম মেলা আজ (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ফকির, দরবেশ ও আশেকান ভক্তগণ আসতে শুরু করেছে। ৩শত ৬০ জন আওয়ালিয়ার শিরোমনি শাহ জালাল (রহঃ) এর সফর সঙ্গী হযরত শাহ শামছুদ্দিন বুখারী (রহঃ) বাংলা ১২২৫ সালে ৩ জন সঙ্গী শাহ নাসির, শাহ কবীর ও শাহ কলন্দরকে নিয়ে কটিয়াদী উপজেলার কুরিখাই অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন এবং তিনিই এ অঞ্চলের প্রথম ইসলাম ধর্মের প্রচারক। এছাড়া তিনি ছিলেন বার আউলিয়ার একজন।
প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবার কুড়িখাই শাহ শামছুদ্দিন বুখারী (রহঃ) মাজারে সপ্তাহব্যাপী মেলা শুরু হয়। মেলা শুরুর আগের দিন সোমবার দিবাগত রাতে মূলত যিকির আজগার ও মিলাদের মাধ্যমে শামছুদ্দিন বুখারী (রহঃ) ওরস হয়।
পরবর্তীতে এক কিলোমিটার এলাকা ব্যাপী বসে মেলা। এতে কাঠের জিনিসপত্র, মিষ্টি, খেলনা, মিঠাই, মন্ডা, মুড়ি ও বিন্নি খৈ এর বিরাট হাট বসে। এছাড়াও সাকার্স, পুতুল নাচ, নাগরদোলাসহ আয়োজন করা হয় বিভিন্ন বিনোদনের।
মেলা উপলক্ষ্যে এ অঞ্চলের জামাইদের বিশেষভাবে দাওয়াত দেয়া হয় এবং মেলার প্রধান আকর্ষন মাছের হাট। লোক বিশ্বাস মতে কুড়িখাই মেলায় বোয়াল মাছ খেলে সে বছরের জন্য শনির দশা থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।
মেলাকে উপলক্ষ্য করে প্রত্যেক বাড়ীতে জামাইদের দাওয়াতের প্রচলন রয়েছে। মেলার বিশেষ আকর্ষন শেষ ২ দিন বসে বউ মেলা। শুধুমাত্র এলাকার বিভিন্ন বয়সের মহিলারা মেলায় এসে কেনাকাটা করে থাকেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় লক্ষাধিক লোকের আগমন ঘটে। এখানে মাজার শরীফ, মসজিদ পুকুর, প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বিশ্রামাগারসহ পাগল ফকিরদের আবাসিক স্থান রয়েছে।
মেলা উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কটিয়াদী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব মোঃ আইন উদ্দিন জানান, এ মেলা এ অঞ্চলের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। ফলে মেলাকে ঘিরে বাংলার যে লোক ঐতিহ্য তা আরও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেলার নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, হযরত শাহ শামছুদ্দিন বুখারী (রহঃ) আউলিয়ার ওরস উপলক্ষ্যে কুড়িখাই- এর মেলা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এ অঞ্চলের লোকজনের মিলন মেলা। ফলে এর ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে।

