একাত্তর বাংলাঃ স্বল্পোন্নত দেশে থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতার ৪৮তম বছরে পা রাখলো বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পৃথিবীর বুকে স্বাধীন অস্তিত্বের জানান দেয়া বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ এই পথচলায় দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধিত হলেও কমেনি শ্রেণি বৈষম্য। তাদের মতে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যার্জনে সুষ্ঠু পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রয়োজন জনদক্ষতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি রোধ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন।
ভয়াল কালরাত্রি শেষে বাংলার পুব আকাশে উঁকি দেয় রক্ত রাঙা সূর্য। ভীতবিহ্বল মানুষ দেখলো লাশপোড়া ভোর। সারি সারি স্বজনের মৃতদেহ। পুড়ছে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত লাশ-সবুজ পতাকা।
চোখে জল। বুকে আগুন। জ্বলে উঠলো মুক্তিকামী জনতা। গড়লো প্রতিরোধ। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পাওয়া মাত্র মৃত্যুকে তুচ্ছজ্ঞান করে জয় বাংলা স্লোগানে শত্রুর কামানের সামনে এগিয়ে দিলো সাহসী বুক। এমনিভাবে একাত্তরের ২৬শে মার্চ কোটি বাঙালির হৃদয়ে মুক্তির যে প্রদীপটি জ্বলে উঠেছিল দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শেষে তার পূর্ণতা মেলে ১৬ই ডিসেম্বর।
এরপর প্রায় পাঁচ দশকে নানা পিছুটান সত্ত্বেও দৃঢ় অচঞ্চল পায়ে সামনে এগিয়েছে বাঙালি। সকল বাধা আর নানা ষড়যন্ত্র পায়ে ঠেলে স্বল্পোন্নত দেশের পরিচয় পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের দোড়গোড়ায়। এক অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় ৪৮এর বাংলাদেশ।
অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, আমাদের চলমান সমস্যা সমাধান করার মানসিকতা থাকতে হবে, মনে রাখতে হবে যেন আত্মতুষ্টিতে না ভুগতে হয়।
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের উত্তোরণ ঘটেছে, তলাবিহীন ঝুড়িটি আজকে উপচে পড়ছে। কিসিঞ্জারের অভিযোগ কাজে লাগেনি। তবে এও ঠিক, ৪৭ বছরে আমাদের আদর্শচ্যুতি ভয়ংকর।
তবু বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম আর প্রজ্ঞার ফল যে স্বাধীনতা, তার মূল লক্ষ্যার্জনে আজো অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। শ্রেণি বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে একটি উদারনৈতিক ও প্রগতিশীল সমাজ কাঠামো গড়ে তুলতে পাড়ি দিতে হবে আরো অনেকটা পথ।
দেশকে এগিয়ে নিতে সকল ভেদাভেদ ভুলে শ্রমজীবী, পেশাজীবীসহ সকল স্তরের মানুষকে একাত্ম হয়ে কাজ করার আহ্বান বিশিষ্টজনদের।

