একাত্তর বাংলাঃ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার দশ বছরের মধ্যেই উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখাতে পারত বাংলাদেশ। এমনটাই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা। কত মানুষের আত্মত্যাগ। নিশ্চয়ই তাদের আত্মা শান্তি পাবে। এই অগ্রযাত্রাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে, বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উপলক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভাষণ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা দেয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা যাতে থেমে না যায়, সেজন্য নিঃশর্ত-ভাবে দেশের কল্যাণে সবার আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতার এক পর্যায়ে পারিবারিক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। এ সময় তিনি বলেন,’ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে রেখে গেছেন। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশকে উন্নত করতে পেরেছি।’
এ সময় গলা ভারী হয়ে আসে প্রধানমন্ত্রীর। চোখে অশ্রু নিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয় আজকে যে বাংলাদেশের মানুষের অর্জন, তিনি কি বেহেস্তে থেকে দেখতে পাবেন! তিনি কি জানতে পারবেন! আমি এখানে আসার আগে আমার ছোট বোনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, রেহানার সঙ্গে কথা বলেছি। যে আব্বা যেটা চেয়েছিলেন তার বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। বাংলাদেশের মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে। আজকে সেই সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। আমরা একটা ধাপ এগিয়ে গেছি।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘যদি তিনি বেঁচে থাকতেন হয়তো দশ বছরের মধ্যে আমরা এই অর্জন করতের পারতাম। কিন্তু তা হয়নি। আমাদের বহু বছর লেগে গেল। অনেক সময় লেগে গেলো। ৪৭ বছর হলো আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আগামী ২৬ তারিখ আমাদের স্বাধীনতার ৪৭ বছর পূর্ণ হবে। দীর্ঘ সময় পরে আমাদের এই অর্জন। নিশ্চয়ই আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা। কত মানুষের আত্মত্যাগ। নিশ্চয়ই তাদের আত্মা শান্তি পাবে। এই অগ্রযাত্রাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমরা এত সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো। কেন অন্যের কাছে হাত পেতে চলবো। কেন আমরা পারবো না নিজের পায়ে দাঁড়াতে। আমরা যে পারি সেটা আজ প্রমাণ করেছি।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরণ অভিযাত্রা উদযাপন অনুষ্ঠান থেকে স্মারক ডাকটিকিট, ৭০ টাকার স্মারক নোট এবং উন্নয়ন ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়া হয়। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এছাড়া বিরোধী দল এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা দেয়া হয়।

