একাত্তর বাংলাঃ রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হতে পারেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম চ্যানেল ফোর এ এক সাক্ষাৎকারে সু চির নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। এদিকে, রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে না আসলে, উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় তাদেরকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে, এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক। সভায় ভারত, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ ৫০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানামরকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র সচিব।
পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে ৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছেন। সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের উচিত আরও আন্তরিক হওয়া। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ চলমান সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তি অনুযায়ী ২ বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্নের অংশ হিসেবে, গেল মাসে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও, তা পিছিয়ে যায়। তবে শিগগিরই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া শুরুর বিষয়ে আশাবাদী দুই দেশ।
এ অবস্থায় রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর তাদের যে শিবিরে রাখা হবে, সেগুলো পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ বিষয়কমন্ত্রী উ ইউন মিয়াত আয়ের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল রাজ্যের সিতওয়ে ও মংডু এলাকায় নির্মিত অস্থায়ী শিবির পরিদর্শন করেন। তাদের সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিক ও জাতিসংঘ প্রতিনিধিরাও ছিলেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। রোহিঙ্গা নির্যাতনকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে, এর দায়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হতে পারেন বলে এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। রাখাইনে গণহত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায়, সু চি নিজেও মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হতে পারেন। সেখানে জায়গায় জায়গায় গণহত্যার আলামত রয়েছে। আজ বা কাল রাখাইনে আরও গণকবরও পাওয়া যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা নিধন করা হয়েছে।
এদিকে, রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গিয়ে গ্রেফতার হওয়া রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে, শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ করেছেন মিয়ানমারের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

