নিজস্ব প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রার কতৃক দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার,ওই মামলায় গ্রেফতারকৃত আ’লীগ নেতার মুক্তি ও সাব-রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রদান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। মিছিলে দলীয় নেতাকর্মীরা সাব-রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামীম এর অপসারণের দাবিতে নানা ধরনের স্লোগান দেন। সেই সাথে দ্রুত মামলা প্রত্যাহার করে মেরুরচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক দলিল লেখক ইলিয়াস আলীর নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানান তারা। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারকে অপসারণ ও আওয়ামীলীগ নেতা ইলিয়াস আলীর মুক্তির দাবি জানিয়ে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়,পৌর আওয়ামীলীগের আহবায়ক জালাল উদ্দিন জালাল ও যুগ্ম আহবায়ক ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম তালুকদার জুমান। দাবি না মানা পর্যন্ত লাগাতার বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচীর ঘোষনা দেন তারা। বিক্ষোভ মিছিলে আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগ,যুবলীগসহ দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
বক্তব্যে বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম তালুকদার জুমান বলেন,সাব-রেজিস্ট্রার একজন দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর। তিনি নিজের অপকর্ম ডাকতে মনগড়া নাটক সাজিয়ে দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। সেই মিথ্যা মামলায় মেরুরচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিরপরাধ ইলিয়াস আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে ইলিয়াস আলীকে মুক্তি দিতে হবে। সেই সাথে সাব-রেজিস্ট্রারের অপসারণ দাবি করেন তিনি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধরণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয় বলেন,গত বুধবার সাব-রেজিস্ট্রারের ফোন পেয়েই আমরা তার অফিসে গিয়েছিলাম। সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম ইসলাম সওদাগর ও ভাইস চেয়ারম্যান জুমান তালুকাদার তার সাথে ছিলেন। সেখানে ভাংচুর বা দলিলপত্র ছেড়ার কোন ঘটনাই ঘটেনি। তাছাড়া আওয়ামীলীগ নেতা ইলিয়াস আলী সেখানে ছিলেনও না। তবু আমরা সাব-রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলেছি দলিল লেখকদের সাথে দ্বন্ধ নিরসনের জন্য। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার কল্পকাহিনী সাজিয়ে একাধিক আওয়ামীলীগ নেতাসহ দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। অনতিবিলম্বের মামলা প্রত্যাহার করে ইলিয়াস আলীকে মুক্তি দিতে হবে। সেই সাথে সাব-রেজিস্ট্রারের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চলবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামীম বলেন,তিনি জুরুরী কাজে ঢাকায় আছেন। সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে দলিল সম্পাদন না করার কারনে তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করেছে দলিল লেখকরা। দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ শতভাগ সত্য। আর সত্য বলেই তিনি মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের মাধ্যমে সত্য মিথ্যা নির্নয় হবে বলে জানান। সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকদের দ্বন্ধের কারনে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,সকল দলিল লেখকের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ নেই। অভিযোগ শুধু কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তাছাড়া আগামী রোববার থেকে নিয়মিত অফিস করবেন তাই কোন মানুষ ভোগান্তির শিকার হবে না বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য ,সরকারি কাজে বাধাঁ প্রদান করে দলিলের অবিকল নকল,৫২ ধারা রশিদসহ অন্যান্য কাগজপত্র ছিড়ে ফেলা এবং সাব-রেজিস্টারকে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ফিরোজ মিয়া,সাবেক সভাপতি আলী আহসান খোকা ও কোষাধ্যক্ষ গোলাম রব্বানী,মেরুরচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মিষ্টারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাব-রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামীম। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১৫ জনকে আসামী করা হয়। ওই বৃহস্পতিবার মেরুরচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দলিল লেখক ইলিয়াস আলীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলিল লেখকরা। ।

