আবির হোসেন সজল:ভারতের রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ থেকে লালমনিরহাট জেলার উত্তর বাংলা কলেজ এর মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান গবেষক আবু সাঈদ মোঃ শহীদুজ্জামান পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
চলতি বছর মার্চে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. দীপক কুমার রায় সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। তাঁর গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মানস নাস্কার । গবেষণার শিরোনাম “Consumer Perception and the Role of Government in Quality Assessment and Labelling of Packaged Food Products in Bangladesh” এই গবেষণায় তিনি বাংলাদেশের প্যাকেটজাত খাদ্য-পন্যের গুণগত মান ও লেবেলিং এ বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং এ সম্পর্কেভোক্তার মতামত বিশ্লেষণ করেছেন। প্যাকেটজাত খাদ্য পণ্যের গুণ মাণ চিহ্নিত করার ও এর সম্ভাব্য কারণগুলিকে বিশ্লেষণ করার প্রয়াস করেন।
তাঁর গবেষণায় বাংলাদেশের খাদ্য পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও গুণগত মানের নিশ্চয়তা বিধান ও উৎপাদিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও গুণগত মান উন্নয়নে উদ্বুদ্ধকরণ ও পরামর্শ প্রদান কারী প্রতিষ্ঠান শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ স্ট্যন্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এর কার্যকলাপ , ভূমিকা এবং বাংলাদেশ স্ট্যন্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন সম্পর্কে সাধারন ভোক্তার প্রত্যক্ষন বিশেষ করে প্যাকেট জাত খাদ্যের লেবেল এ বাংলারদেশের প্যাকেজিং আইনের প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণে এ ভোক্তা সাধারণের মতামত বিশ্লেষণ আধুনিক শিল্প , বাণিজ্যে অভিযোজন, বিশ্বায়নের অভিঘাত এ দেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্যাকেটজাত খাদ্য পণ্যের গুণ মাণ , প্যাকেজিং ও লেবেলিং কী ধরণের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে তা বিশ্লেষণ করা হয়। প্যাকেটজাত খাদ্য পণ্যের মূল্য প্রাথমিক উদ্বেগ বা প্রভাবশালী ফ্যাক্টর নয় যা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্যাকেটজাত খাদ্যের লেবেলিং হল খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্যের গুণমানের একটি উল্লেখযোগ্য পূর্বাভাস। বিএসটিআই-এর নিয়ন্ত্রক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ভোক্তা সচেতনতা, লেবেল নির্ভুলতার বিশ্বাস, মূল্য বিবেচনা, সন্তুষ্টির মাত্রা, অনুপ্রেরণা এবং ব্র্যান্ডের নির্ভরযোগ্যতার মতো বিষয়গুলি ভোক্তাদের ধারণা গঠনে অবদান রাখে। ভোক্তা আচরণ এবং উপলব্ধির জটিলতাগুলিকে মোকাবেলা করে এমন বিস্তৃত কৌশলগুলি ডিজাইন করার ক্ষেত্রে এই কারণগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএসটিআই-এর মতো নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কার্যকর কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে শক্তিশালী করা, প্রয়োগ ও সম্মতিমূলক ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা এবং স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সহযোগিতার উন্নতি অপরিহার্য। নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালীকরণ, সহযোগিতার উন্নতি, ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মতো প্রস্তাবনাগুলিকে সমাধান করার মাধ্যমে, কর্তৃপক্ষ শিল্পের চ্যালেঞ্জ এবং জটিলতাগুলিকে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে পারে। এই প্রচেষ্টাগুলি প্যাকেটজাত খাদ্য পণ্যের নিরাপত্তা ও গুণগত মান উন্নত করতে, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এবং বাংলাদেশের খাদ্য বাজারে ভোক্তাদের আস্থা বজায় রাখতে অবদান রাখবে।
ড. শহীদুজ্জামান ১৯৮০ সালের ০১ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাতিবান্ধা এস এস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ২০০১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং এ স্নাতক সম্মান (বিবিএ)এবং ২০০২ সালে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ২০১১ প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রী (এলএল বি) অর্জন করেন।
ড. শহীদুজ্জামান মাকেটিং পেশায় কর্ম জীবন শুরু করেন । ইতিপূর্বে তিনি প্রাণ- আর এফ এল কোম্পানি তে সেলস ও ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগে এবং ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড এস এম ই শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি উত্তর বাংলা কলেজ এ মার্কেটিং বিভাগীয় প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার এ অংশগ্রহণ সহ আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী তে তার কয়েকটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে । তিনি শিক্ষকতা ও ব্যবসায়িক বিষয়ে গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান।

