নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে স্থগিত হওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) স্মার্ট কার্ড বিতরণের কার্যক্রম ফের চালু করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে ১২ দিনে দেশের ১৫ উপজেলায় ২৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪০০ জন নাগরিক পাবে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) এ স্মার্ট কার্ড। সম্প্রতি জারিকৃ
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এনআইডি’র স্মার্ট কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। এ কার্যক্রম আবার শুরু কর হয়েছে যা চলবে ২৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ১৫ উপজেলায় প্রায় ২৪ লাখ ৫৬ হাজারের মতো। এরপর পর্যায়ক্রমে যে-সকল এলাকা স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়নি সেসকল এলাকাতেও এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক আইডিইএ (দ্বিতীয় পর্যায়) ব্রিগেডিয়ার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম ইসির জানুয়ারি মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় জানান, মাঠ পর্যায়ের ২৯টি উপজেলার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ করা হয়েছে; যা দ্রুত উপজেলা পর্যায়ে প্রেরণ করা হবে। এর মধ্যে ১৫টি উপজেলার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র চলতি মাসেই বিতরণ করার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। পরবর্তীতে আরও ১৪টি উপজেলার মুদ্রিত স্মার্ট কার্ড বিতরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
চিঠিতে যা বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারাদেশে মাঠ পর্যায়ে চলমান স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম ৩০ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখের মধ্যে শেষ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। এছাড়া যে-সকল উপজেলা/থানা পর্যায়ে স্মার্ট কার্ড মুদ্রণপূর্বক প্রেরণ করা হয়েছিল কিন্তু বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়নি তাদেরকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। উক্ত নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যে-সকল উপজেলা/থানায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল সে সকল উপজেলা/থানায় আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ হতে এবং অত্রসাথ সংযুক্ত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী (সংলগ্নী-ক) সংশ্লিষ্ট উপজেলাসমূহের পাশে বর্ণিত নির্ধারিত তারিখ অনুসারে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
কোন উপজেলায় কবে স্মার্ট কার্ড দেবে ইসি:-
২৩ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে-বাকেরগঞ্জ ২১৮০৪৬টি,দেবীদারে ২৮৬৪১৬টি,বিরামপুরে ১২৩৩৫৩টি, উল্লাপাড়ায় ২৬২৩৫০টি।
২৬ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে-লোহাগড়ায় ১৮০২৪৬টি, কটিয়াদীতে ২০৯২১৮টি,লালপুরে ১৯৪১৮৪টি, ফুলবাড়ীয়াতে ৩০৩২০৮টি, চিতলমারীতে ৯১৩১৮টি।
২৯ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি স্মার্ট দেওয়া হবে-আলফাডাঙ্গায় ৭২৬৮৯টি, ভাঙ্গুড়ায় ৮২৮৩৪টি, বিয়ানীবাজারে ১৫৬২৭৪টি, ডামুড্যাতে ৭৯৬৯৩টি।
৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে-ফুলতলা উপজেলায় ৫৭২৮০টি এবং ভেড়ামারায় ১৩৯৬৯০টি স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে।
২০১১ সালে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি প্রকল্প হাতে নেয়। যার নাম দেওয়া হয় আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর অ্যানহেন্সিং এক্সেস টু সার্ভিস বা আইডিইএ। যার অধীনেই নাগরিকদের এই কার্ড দেওয়া শুরু হয় ২০১৫ সালে।
সে সময় ফরাসি প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান অবার্থার টেকনোলজিজের সঙ্গে নয় কোটি কার্ড সরবারের চুক্তি করে ইসি। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ালেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্ড সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ঝুলে যায় নাগরিকদের স্মার্টকার্ড প্রাপ্তি।
এরপর ২০১৮ সালে এসে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বিএমটিএফ-এর কাছ থেকেই উন্নতমানের এই কার্ড সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান থেকেই সহায়তা নিচ্ছে ইসি।
এর আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক নির্দেশনায় বলেছিল, ভোটার তালিকা হালনাগাদ-২০২২ এ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার নিবন্ধনের জন্য যাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে অফিসে এসে যারা ভোটার তালিকাভুক্তির জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন তাদের মধ্যে ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পূর্বে যাদের জন্ম তাদেরকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির নিমিত্ত ২১ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সদয় সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।
ইসির ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, খসড়া হালনাগাদ করা খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে ২১ জানুয়ারি, দাবি-আপত্তি জানানোর শেষ সময় ৫ ফেব্রুয়ারি, দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির শেষ সময় ১১ ফেব্রুয়ারি, দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত তালিকায় সন্নিবেশ করার শেষ সময় ১৮ ফেব্রুয়ারি। আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২ মার্চ।
প্রতিবছর ২ জানুয়ারি খসড়া প্রকাশ করা হলেও গতবারও সংসদ নির্বাচনের কারণে কিছুটা পিছিয়ে ১৫ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছিল। এবারও একই কারণে আরো পেছানো হলো। আইনে প্রতি বছর ২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার বিধান রয়েছে।
বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮৫২ জন।

