আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজার যুদ্ধ নিয়ে বড় মাপের শান্তি সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছে চীন। মিসরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়্যাং ই এ আহ্বান জানান। এদিকে এসবের মধ্যেই তিন ইসরায়েলির ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস।
সাত অক্টোবরে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার পর ১০০ দিন পার হয়ে গেছে। গাজায় এখনো তীব্রভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক মহল এরই মধ্যে ইসরায়েলের আক্রমণে নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও এ ব্যাপারে সতর্ক করেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে। কিন্তু তাতে কান দেয়নি ইসরায়েল।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে মিসর, তিউনিসিয়া, টোগো এবং আইভরি কোস্ট সফর করছেন। তিনি গত সপ্তাহে জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং সৌদি আরব এবং ইরানের নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে ‘গভীর যোগাযোগ’ রাখছেন। শিনহুয়ার খবর বলছে, চীনের শীর্ষ এ কূটনীতিক আরব লীগের মহাসচিবের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। লোহিত সাগর নিয়ে নিজ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
গত রবিবার হামাসের প্রকাশিত ভিডিওতে তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে দেখা গেছে। তাদের নাম- নাও আরগামানি (২৬), ইয়োসি শারাবি (৫৩) এবং ইতাই ভিরস্কি (৩৮)। ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘আগামীকাল (গতকাল সোমবার) তাদের ভাগ্য সম্পর্কে আমরা আপনাদের জানাব।’
গত মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পার্লামেন্টে বলেন, ‘আমরা বেইজিংয়ের কাছে আরগামানিকে মুক্ত করার জন্য সহায়তা চেয়েছি। তার মা লিওরা চীনের নাগরিক।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ইসরায়েলি আক্রমণে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৬০ হাজার। এ ছাড়া ইসরায়েলি হামলায় গাজার বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মৃতদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়।
এদিকে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো নিয়ে হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের। ইয়েমেনে হুতি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। অন্যদিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সবমিলিয়ে গাজার যুদ্ধ আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা সাফার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গাজার খান ইউনিসে যুদ্ধবিমান ও সাজোয়া যান দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি যোদ্ধা মারা গেছে। গাড়িতে করে খান ইউনিসের দক্ষিণে অস্ত্র স্থানান্তর করছিলেন তারা। এ ছাড়া তারা শহরে হামাসের কমান্ড সেন্টার এবং দুটি অস্ত্র মজুদে অভিযান চালিয়েছে বলে জানায়।
এদিকে, ইসরায়েলি শহর আশদোদকে লক্ষ্য করে হামাস নতুন করে রকেট হামলা চালিয়েছে। কোনো হতাহতের ব্যাপারে এখনো জানা যায়নি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত রবিবার দাবি করে, তারা হামাসের কয়েকটি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। সে স্থানগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কাজে ব্যবহার করত গোষ্ঠীটি। সূত্র: রয়টার্স

