একাত্তর বাংলাঃ-
মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের জন্য অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ডলার দেবে।
ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ী হাইকমিশনার জেরেমি বুয়ার আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাতের সময় এ প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে তারা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে ২০০৮ সাল থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলেও দেশটি দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের অধীনে ছিল।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এবং এটি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নিজস্ব উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করেছে।
অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য শুভ কামনা জানান। তিনি কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের জনগণের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেরেমি আরও সহযোগিতার জন্য জ্বালানি এবং জলবায়ু পরিবর্তন খাতে জোর দেন।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি ভালো করছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশই প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশের প্রতি তার দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তার দেশ রোহিঙ্গাদের জন্য প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ডলার দেবে।
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া দূত আরও বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চাইলে অস্ট্রেলিয়ার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ সুবিধায় তারা বাংলাদেশকে আরও সহযোগিতা করবে।
অ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ মো. জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ওই সময় উপস্থিত ছিলেন।

