নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা মতো ৮০২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
গত ২৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে মন্ত্রণালয়কে এই সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়। নির্বাচনে ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালনের জন্য এই ৮০২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
ভোট গ্রহণের কয়েক দিন আগে এবং ভোট গ্রহণের পর পর্যন্ত কিছুসংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজেও নিয়োজিত করার প্রয়োজন হবে জানিয়ে ২৮ নভেম্বর থেকে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮০২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে বলেছিল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ভোট গ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য এসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে বলেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল কোর্ট আইনের আওতায় আচরণবিধি প্রতিপালন করতে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি উপজেলায় একজন করে, তবে ১৫ বা এর বেশি ইউনিয়ন রয়েছে এমন উপজেলায় দুজন করে, এ শ্রেণির জেলা সদরের পৌরসভায় একজন তবে ওয়ার্ড ৯টির বেশি হলে দুজন করে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫ জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১০ জন, খুলনা সিটি করপোরেশনে ৬ জন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ৪ জন এবং অন্যান্য সিটি করপোরেশনে তিনজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে।
উপজেলাগুলোতে ৫২৫ জন, পৌরসভায় ২১০ জন এবং সিটি করপোরেশনে ৬৭ জনসহ ৮০২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে গত ২৩ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তার নিরিখে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা কমাতে বা বাড়ানো যাবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা খবরের কাগজের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদটি খুবই স্পর্শকাতর। তাকে পরিস্থিতি বুঝে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার যে কাউকে এই দায়িত্ব দিতে পারে না। সঠিক ব্যক্তি নির্বাচন করাটা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তরের বিসিএস ক্যাডার যারা রয়েছেন, বিশেষ করে যারা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন- তারাই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের দুই দিন পর তারা আবার তাদের স্বপদে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালীন তারা সার্বক্ষণিক নির্বাচন কমিশন মনোনীত নির্বাচন কমর্কতা, জেলা প্রশসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

