সুমন ভৌমিকঃ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ও মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সারাদেশে প্রথমসারির করোনা যোদ্ধা (ফ্রন্টলাইন ফাইটার) হিসেবে বিশ্বে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে।
করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন কিংবা সৎকার পর্যন্ত করতে হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে। যা ইতিহাস সাক্ষী হয়ে থাকবে। মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে তারা প্রাণ দিয়েছেন। তাদের অবদান জাতি ভুলবে না।
সারাদেশের ন্যায় করোনাকালে মানবিক ভূমিকার প্রশংসায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সেই বদ্ধমূল ভাবনার গায়ে মানবিকতার পরশ বুলিয়ে দিয়েছেন। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল জেলা পুলিশ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংক্রমণের শিকার হয়েছে শতাধিক।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) করোনার এই দুর্যোগে পুলিশের এক নতুন মানবিক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। করোনাকালে পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্বাবধানে পুলিশের জনকল্যাণকর ভূমিকা ময়মনসিংহবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। সারাদেশের ন্যায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ফ্রন্টলাইনে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউ এইচ ও) এক ব্রিফিং-এ বলেছেন, দ্বিতীয়দফায় করোনা ভাইরাস ব্যাপক মাত্রায় সংক্রমণ বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেদিক বিবেচনা করে এবং সংক্রমণের আশংকায় ফ্রন্টলাইনে থাকা জেলা পুলিশ সদস্যদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে পুলিশ সুপার মাস্ক বিতরণ করেন। তিনি জেলার পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের জন্য প্রায় ৩ হাজার মাস্ক বিতরণ করেন। এছাড়াও তিনি মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সচেনতামূলক সভা এবং মাস্ক বিতরণ করেছিলেন।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পুলিশ সদস্যদের মাঝে মাস্ক বিতরণকালে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান বলেন, করোনাকালে পুলিশ ও ডাক্তার ফ্রন্টলাইনে শুরু থেকে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন। মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ এর এ পর্যন্ত ১৪শ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং তারমধ্যে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের শতাধিক সদস্য আক্রান্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয়দফায় করোনার ভয়াবহতা বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে পুলিশ সদস্যদেরকে করোনামুক্ত এবং জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাস্ক বিতরণ চালিয়ে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ।
তিনি পুলিশ সদস্যদের মাঝে মাস্ক বিতরণ এর কারণ উল্লেখ করে বলেন, পুলিশ সদস্যদের মাঝে সচেনতা বৃদ্ধি ছাড়াও পুলিশ সদস্যরা মাস্ক না পরে অন্যদেরকে মাস্ক পরার তাগিদ দিলে জনগণ তা মেনে নেবে না। আর এই জন্যই পুলিশকে আগে মাস্ক পরতেই এই মাস্ক বিতরণ।
এ সময় পুলিশ সুপারের কাছ থেকে মাস্ক গ্রহণ করেন, ডিবি, ট্রাফিক, কোতোয়ালী, মহানগরের তিনটি ফাঁড়ি, কোর্ট পুলিশ, ডিএসবি, পুলিশ অফিস সদস্যরা নিজ নিজ দপ্তরের জন্য মাস্ক গ্রহণ করেন।
মাস্ক বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান মিয়া, জয়িতা শিল্পী, হাফিজুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক ট্রাফিক (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ডিবির পুলিশ পরিদর্শক শাহ কামাল আকন্দসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা

