অভিন্ন মেট্রোপলিটন আইন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উত্থাপন করেছেন ডিসিরা। তারা বলেছেন, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন বিভিন্ন সময় গঠন করা হয়েছে। গঠনের সময় একেকটি মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য একেক ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
অভিন্ন আইন না থাকায় অনেক সময় সমস্যা হয়। ডিসিদের চতুর্থ গেডের পদমর্যাদা দাবি করেছেন তারা। মাঠ প্রশাসনে একমাত্র পুলিশের ডিআইজিরা চতুর্থ গ্রেড পেয়ে থাকেন।
জেলা পর্যায়ে কিছু কিছু কর্মকর্তা ডিসিদের সঙ্গে বিমুখ আচরণ করছেন বলেও তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান। তারা বলেছেন, এমন অনেক প্রকল্প আছে যে বিষয়ে ডিসিরা জানেনই না। ফলে সাধারণ মানুষ ওই বিষয়ে ডিসির কাছে কিছু জানতে চাইলে তারা জবাব কিংবা প্রতিকার দিতে পারেন না। ফলে এক ধরনের ভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গায় আন্তর্জাতিক মানের মানমন্দির নির্মাণ এবং জেলার প্রতিটি উপজেলায় সরকারি লাইব্রেরি স্থাপনের কথা বলেছেন একজন ডিসি।
গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ এ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসিদের মুক্ত আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন। মুক্ত আলোচনায় বিভাগীয় কমিশনারসহ মোট ২৮ ডিসি বক্তব্য দেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেক অপরাধ দমনে আইন থাকলেও ওই আইন ভ্রাম্যমাণ আদালতের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে যেসব আইন ভ্রাম্যমাণ আদালতের তফসিলভুক্ত নয়, সেগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের তফসিলভুক্ত করার বিষয়ে ডিসিরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করেছেন।
এতে নতুন নতুন অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে বলে মনে করছেন মাঠ প্রশাসনের এ কর্মকর্তারা। সরকারি স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখায় অনেক সময় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সরকারি স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখায় মামলা হলেও ওই মামলা পরিচালনার জন্য কর্মকর্তারা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে উকিল রাখতে হয়। মামলার খরচ সরকারিভাবে বহনের বিষয়টি তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। ডিসিরা সব সরকারি কর্মকর্তার জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছেন।
ডিসিরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের ফলে সাধারণ মানুষ খুবই উপকৃত হচ্ছেন। এটি সরকারের সাফল্যগুলোর মধ্যে একটি। কমিউনিটি ক্লিনিক আপামোর জনসাধারণের কাছে দারুণভাবে সমাদৃত হয়েছে। সেক্ষেত্রে যেসব ইউনিয়নে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই, সেসব ইউনিয়ন ও দুর্গম এলাকায় ভ্রাম্যমাণ কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনা করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ও খাতা আনা-নেওয়ার খরচ বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ খরচের টাকা ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করে।
এ খাতের খরচ শিক্ষা বোর্ড কিংবা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বহন করার বিষয়টি তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষা একটি মাত্র কেন্দ্র থেকে নেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য ডিসিরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
দেশ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি দূর করার জন্য দেশের একটি জেলার সব উপজেলায় একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর গোচরে এনেছেন একজন ডিসি। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় ভিক্ষুকমুক্ত করার কর্মসূচি হাতে নেওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন ডিসিরা। কৃষিজমি রক্ষায় শিল্পকারখানা স্থাপনের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছেন ডিসিরা।
তারা বলেছেন, কৃষিজমি শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজে ব্যবহারের আগে ডিসির অনুমতি নেওয়ার বিধান আছে। বাস্তবে উদ্যোগতা ও বিনিয়োগকারীরা শিল্পকারখানা স্থানের আগে জমি ক্রয়ের সময় ডিসিকে অবহিত করেন না। ফলে আশঙ্কাজনক হারে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে শিল্প উদ্যোগতাদের কেন্দ্রীয়ভাবে সতর্ক করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছেন ডিসিরা।

